২০০৮ সালের একটি হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করার অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার চেয়েছেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নতুন কৃষ্ণনগর গ্রামের মো. আমজাদ হোসেন ওরফে আমজদ আলী (৫২)। এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে ১৯ মাস ১৩ দিন কারাভোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সত্যতা যাচাই এবং মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমজাদ হোসেন জানান, তিনি স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে নিজ এলাকায় শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তিনি আদর্শ ছাত্র পরিষদ, পান্ডারগাঁওয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং শ্রীপুর সরকারি খাদিজাতুল কুবরা (রহ.) মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষানুরাগী সভাপতি, দাতা সদস্য ও সহসভাপতি এবং হাজী কনু মিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষানুরাগী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান।
আমজাদ হোসেন বলেন, প্রবাসে যাওয়া কিংবা শহরে চাকরি করার সুযোগ থাকলেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার জন্য তিনি গ্রামে থেকে কাজ করেছেন। তবে একটি পক্ষের প্রভাব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যার পর দোয়ারাবাজার উপজেলার নতুন কৃষ্ণনগর গ্রামের ইনাইখালির পশ্চিমে সেলিম মিয়া ও ভোরহান উদ্দিন গংদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর সেলিম মিয়া বাড়ি ফিরে যান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন ।
এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল সেলিম মিয়ার ভাগনে শুকুর আলী বাদী হয়ে আমজাদ হোসেনকে এক নম্বর আসামি করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
আমজাদ হোসেনের দাবি, সংঘর্ষের সময় তিনি শ্রীপুর বাজারে নুরুলের চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখানে ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুল হকের নেতৃত্বে ফুটবল খেলার আয়োজন নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আলোচনা চলছিল। ওই আলোচনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে আদালতে সাফাই সাক্ষীরাও তাঁর অবস্থানের বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আমজাদ হোসেন জানান, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে মোট ১৯ মাস ১৩ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। দীর্ঘদিন মামলা চলার কারণে তাঁর জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। মামলা পরিচালনার আর্থিক চাপ, সামাজিক অবস্থানের ওপর প্রভাব এবং মানসিক যন্ত্রণার পাশাপাশি তাঁর পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় মামলার বাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর বিষয়েও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আমজাদ হোসেন। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত ভিডিওটিতে ২০২৫ সালের ২৫ মে সুনামগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে মামলার বাদি শুকুর আলীকে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওতে বাদীকে বলতে শোনা যায়, তিনি আমজাদ হোসেনকে মামলার আসামি করতে চাননি; তবে এলাকার একটি গোষ্ঠীর চাপে তাঁকে আসামি করতে বাধ্য হয়েছেন।
ভিডিওটির মূল কপি, বক্তব্যের সম্পূর্ণতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে মামলার নথি এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি কারও প্রতি প্রতিশোধ চান না; বরং নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। মামলার নথি ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গ্রহণ এবং বিচারাধীন মামলাটির আইনসম্মত ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। বিজ্ঞপ্তি
