Published on
:
2 min read
হুথিদের আক্রমণের মুখে কার্যত পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন। সোমবার ৪১ বছর বয়সি যুবরাজের গতিবিধি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আধিকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনই দাবি করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিদিনই তাঁকে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যুবরাজকে ঘিরে থাকছেন তাঁর সর্বক্ষণের নিরাপত্তারক্ষীরা।
শনিবার থেকে সৌদি আরব জুড়ে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। কেঁপে উঠছে রাজধানী রিয়াধ থেকে দাম্মাম। বিমানবন্দরগুলিতে আছড়ে পড়ছে মিসাইল। এই পরিস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে নিরাপত্তার ঝুঁকি। হামলা শুরুর আগে গত মঙ্গলবার একটি রক্তদান কর্মসূচিতে হাজির হয়েছিলেন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স। তার পর থেকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাঁকে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবরাজকে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রতিদিন। তাঁকে এমন সব প্রাসাদে রাখা হচ্ছে, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। এমনকী ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারেরও ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। এর মধ্যেই হুথিদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজ়িজ় বিন সলমন। তিনি বলেছেন, ‘হামলা বন্ধ না হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে।’
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘর্ষ চলছে। ২০২২-এ দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে সেই চুক্তি ভেঙে যায়। সেই সময় ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যুদ্ধের আবহে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথিরা পশ্চিম এশিয়ায় তেহরানের মিত্র হিসেবেই পরিচিত। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, সৌদি আরবের পরিস্থিতি নিয়ে তেহরান ‘গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন’। তাঁর বক্তব্য, ‘এই সংঘর্ষের ফলে লাভবান হবে একমাত্র ইজ়রায়েল।’
এর মধ্যেই হুথি বিদ্রোহীদের দমন করতে তিনি সেনা নামানোর কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের মিত্ররাও রিয়াধের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫-য় ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে তৎকালীন সরকারকে সমর্থন জানিয়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল সৌদি আরব। তার পর থেকেই সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত চলছে।
