একটি জয়ই বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের পরিস্থিতি। আবার একটি পরাজয় শেষ করে দিতে পারে ফাইনালের স্বপ্ন! ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর এখন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে টাইগাররা। এমন পরিস্থিতিতে দলের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে মেহেদী হাসান মিরাজের প্রত্যাবর্তন। অসুস্থতার কারণে প্রথম ম্যাচে অনুপস্থিত থাকলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে তাকে পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ব্যাটিংয়ে বড় বিপর্যয়ের পাশাপাশি ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেনি দল। ফলে প্রথম ম্যাচের পর থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটারদের মধ্যে। সেই লড়াইয়ে মিরাজের উপস্থিতি দলের শক্তি বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
অসুস্থতা কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন এই অলরাউন্ডার। তবে কয়েক দিন শারীরিক সমস্যায় ভোগায় তাকে নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পর ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় পৌঁছালেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাকে মাঠে দেখা যেতে পারে।
মিরাজের ফেরার সম্ভাবনায় খুশি সিমন্সও। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, মিরাজকে ফিরে পেয়ে ভালো লাগছে। সে গত কিছুদিন সংগ্রাম করছিল। আজ এবং আগামীকাল আরও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ আছে। আশাকরি পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।’
তবে মিরাজের ফেরার চেয়েও বড় প্রশ্ন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখা গেছে, সেটি কতটা কাটিয়ে উঠতে পারবে বাংলাদেশ? কারণ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। ব্যাটারদের দায়িত্বশীলতা এবং বোলারদের কার্যকর পারফরম্যান্স-দুই জায়গাতেই উন্নতি প্রয়োজন।
বড় পরাজয়ের পরও অবশ্য দলকে নিয়ে আশাবাদী সিমন্স। তার মতে, একটি খারাপ দিন দিয়ে পুরো দলের সামর্থ্য বিচার করা ঠিক হবে না। ক্রিকেটারদের মধ্যে এখনো ভালো করার তাড়না রয়েছে। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।
দলের মানসিক অবস্থা নিয়ে সিমন্স বলেন, ‘ছেলেদের মধ্যে এখনও এনার্জি আছে। আজ সকালেও মিটিং হলো। কী ভালো হলো, কী ভালো হলো না- এসব নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা জানি, এখন আমাদের কী করতে হবে। আমরা ভালো খেলছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা ছিল এমন এক দিন যেদিন কিছুই পক্ষে যায়নি। জানি, এখান থেকে কীভাবে কামব্যাক করতে হয়। আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরের ম্যাচে দিকে তাকিয়ে আছি।’
বাংলাদেশের জন্য আফগানিস্তান ম্যাচটি তাই সাধারণ কোনো লড়াই নয়। ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপরও কিছুটা নির্ভর করতে হতে পারে দলকে। তবে প্রথম কাজ নিজেদের জয় নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে ব্যাটিংয়ে ধৈর্য ও বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে হবে।
মিরাজের প্রত্যাবর্তন দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা হলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে মাঠের পারফরম্যান্স। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে বাংলাদেশকে দেখা গেছে, ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই বাংলাদেশকে দেখতে চাইবে না কেউ। এখন অপেক্ষা, মিরাজের প্রত্যাবর্তন কি সত্যিই দলের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের সূচনা করতে পারে?
