এম,শাহজাহান শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মানবিক কর্মকাণ্ড, জনবান্ধব প্রশাসনিক উদ্যোগ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই শেরপুর জেলাবাসীর প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিন। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অসহায়, দরিদ্র, রোগাক্রান্ত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন করছেন ফরিদা ইয়াসমিন। সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি, দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি জানার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
তবে তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে অসহায় মানুষের প্রতি মানবিক সহায়তার উদ্যোগ। আর্থিক সংকটে চিকিৎসা করাতে না পারা রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, গৃহহীন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা থেকে বঞ্চিত যোগ্য ব্যক্তিদের ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ এবং ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি।
এ ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে আর্থিক সহায়তা, কর্মহীন নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলার উদ্যোগও তাঁর কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য দিক। ভূমিসংক্রান্ত সমস্যায় অসহায় বিচারপ্রার্থীদের আইনগত পরামর্শ ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান, প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ এবং বস্ত্রহীন মানুষের জন্য বস্ত্রের ব্যবস্থা করার মতো উদ্যোগও নিচ্ছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা পত্রপত্রিকায় কোনো বিপদগ্রস্ত মানুষের দুরবস্থার খবর নজরে এলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন জেলা প্রশাসক। তাঁর এসব উদ্যোগে অসহায় মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিও সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এসব গণশুনানিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগ, দুঃখ-দুর্দশা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। অনেক আবেদনকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ঘর, ঢেউটিন, সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ার, ভাতা কিংবা অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের এসব মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জেলাবাসীর একটি বড় অংশের কাছে প্রশংসিত হয়ে উঠেছেন।
জানা গেছে, ফরিদা ইয়াসমিন পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলা সদরের বাসিন্দা। তিনি ২৮তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল শেরপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে—‘ভালো কাজ করতে গেলে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়।’ তবে মানুষের কল্যাণে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে যাওয়াই একজন সরকারি কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় সাফল্য। শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের মানবিক উদ্যোগগুলোও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সহায়তাপ্রাপ্ত মানুষের জীবনমানের স্থায়ী উন্নয়ন, সরকারি সেবার সহজলভ্যতা এবং জেলার সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে ধারাবাহিকতার ওপর। জেলাবাসীর প্রত্যাশা, ফরিদা ইয়াসমিনের মানবিকতা ও জনসেবার এই ধারা ভবিষ্যতেও যেন অব্যাহত থাকে।
The post প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন appeared first on sokalerkhobor24.com.
