২৫০০ কোটি ডলার! আদালতের নির্দেশে এই বিরাট অঙ্কের জরিমানা গুণতে হবে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা মেটাকে। এই প্রথমবার এত বড় অঙ্কের জরিমানা চাপানো হল সংস্থাটির উপর। আদালত জানিয়েছে, ফেসবুক ইউজারদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার নিয়ে আমজনতাকে বিভ্রান্ত করেছ মেটা। সোশাল মিডিয়ার তথ্য তুলে দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণকারীদের হাতে। সেকারণেই এই বিপুল জরিমানা করা হল মেটাকে।
মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কোটি কোটি ইউজারের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে সেই ব্যক্তিগত তথ্য চলে যায় পলিটিক্যাল কনসালট্যান্টদের হাতে। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রথমবার প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরেই প্রকাশ্যে আসে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনা। নিউ মেক্সিকোর আদালতে শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। অবশেষে বুধবার মামলার রায় দিয়েছে আদালত। বিরাট অঙ্কের জরিমানা করা হল মেটাকে, ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ লক্ষ ৩৬ হাজার কোটিরও বেশি।
রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক বলেছেন, গত কয়েকবছর ধরে অন্তত ৪ কোটি বার আইন লঙ্ঘন করেছে মেটা। সংস্থার আধিকারিকরা বারবার দাবি করেছেন যে ইউজারদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয়নি। রায়ে আরও বলা হয়েছে, জুকারবার্গের মতো শীর্ষকর্তাদের আলোচনা এবং অনুমতির ভিত্তিতেই ইউজারদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে। বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, মেটার অপরাধের যা বহর তাতে ২১৯০০ কোটি ডলার জরিমানা হওয়া উচিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৫০০ কোটিতে থেমেছেন তিনি।
যদিও মেটার দাবি, এই বিরাট অঙ্কের জরিমানা চাপানো অসাংবিধানিক। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাবে সংস্থাটি। প্রসঙ্গত, শিশু নিগ্রহের কনটেন্ট নিয়ে ভারতে ইতিমধ্যেই প্রবল চাপে রয়েছে মেটা। মাসদুয়েক আগেই মেটাকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয় কেন্দ্রের তরফ থেকে। ডিপফেক, বিকৃত তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে লাগাম টানতে প্রযুক্তি সংস্থা উপর চাপ বাড়ানো হয়। মেটার অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি, এই ধরনের কনটেন্টের মোকাবিলায় সংস্থাটি কী কী পদক্ষেপ করবে, তার একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ জমা দিতে বলা হয়।
