আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল) থেকে সরে দাঁড়ালেন অলি পোপ। নিলামের ড্রাফট থেকে নাম তুলে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ব্যাটার। তালিবান শাসনে আফগানিস্তানে মহিলাদের দুরবস্থা এবং তা নিয়ে বিতর্কের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পোপ। তালিবান শাসকদের মহিলা (সব বয়সের) বিরোধী আচরণের প্রতিবাদে নতুন টি-টোয়েন্টি লিগে না খেলার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ইংরেজ ক্রিকেটার।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এপিএল খেলার কথা ছিল পোপের। আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে শুরু হবে প্রথম এপিএল। তার আগে নিলামের মাধ্যমে পছন্দের দল গঠন করবে ফ্র্যাঞ্চাইজ়িগুলি। ড্রাফট থেকে নাম তুলে নেওয়ায় পোপকে কোনও দলই নিতে পারবে না। তাঁর পাশাপাশি ইংল্যান্ডের আরও দুই ক্রিকেটার উইল স্মিড এবং ডেভিড উইলিও।
পোপের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত বলে জানা গিয়েছে। বিদেশের কোনও প্রতিযোগিতায় খেলতে হলে ইংল্যান্ডের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের ইসিবির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হয়। পোপ ইসিবির কাছে অনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদনও করেননি। পোপ নাম তুলে নিলেও ইংল্যান্ডের কয়েক জন ক্রিকেটারকে দেখা যেতে পারে প্রথম এপিএলে। ড্রাফটে নাম রয়েছে মইন আলি, দাউইদ মালান, জেমস রিউ, জেমস ভিন্সের। যদিও ইসিবির ক্রিকেট ডিরেক্টর রবার্ট কি বিবিসিকে বলেছেন, ‘‘আইনি সমস্যার কারণে এপিএলে ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ সরাসরি নিষিদ্ধ করা কঠিন। তবে খেলোয়াড়দের উচিত সঠিক এবং নৈতিক অবস্থান নেওয়া। ব্যক্তিগত ভাবে আমার এটাই মত। আমার পক্ষে কথাটা বলা কঠিনও নয়। আমি তো আর খেলতে যাচ্ছি না। সিদ্ধান্ত নিতে হবে ক্রিকেটারদের।’’ তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইসিবি কর্তারা চান না এপিএলে ইংরেজ ক্রিকেটারেরা খেলুন। পোপ-সহ তিন ক্রিকেটার অবশ্য রবার্টের এই মন্তব্যের আগেই ড্রাফট থেকে নাম তুলে নিয়েছেন।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান শাসন ফেরার পর রশিদ খানদের সঙ্গে কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলে না ইংল্যান্ড। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় শুধু মুখোমুখি হয়। তালিবান শাসকদের মহিলা বিরোধী অমানবিক অবস্থানের প্রতিবাদেই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলে না ইংল্যান্ড। রবার্ট বলেছেন, ‘‘আফগানিস্তানে মহিলাদের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়, আমি তার সঙ্গে সহমত নই। ওখানে যা হয়, সেগুলো সমর্থন করি না। এ সব বন্ধ হওয়া উচিত।’’
রবার্টের এই মন্তব্যে পর ইংল্যান্ডের কত জন ক্রিকেটার শেষ পর্যন্ত এপিএলে থাকবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারেরা সরে দাঁড়ালে আফগান ক্রিকেট কর্তাদের নতুন এই উদ্যোগ অনেকটাই ধাক্কা খেতে পারে।
