October 12, 2026, 1:44 pm
জিএম কাদেরের বাসার সামনে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার দাবি
Reporter Name
- Update Time : Monday, October 12, 2026
- 16 Time View
রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের উত্তরাস্থ বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ ছাত্র-জনতা। গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা এবং ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আঁতাত করার গুরুতর অভিযোগ তুলে তার দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করেন তারা। সম্প্রতি ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা উত্তরার প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানারে নানা স্লোগান ও জিএম কাদেরের কারাবন্দি প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়। ফেস্টুনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এই রাজনীতিবিদ। এছাড়া ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’ সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পরও ওই দলটি ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিকরা বিগত তিনটি বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের মতে, অতীতে একদলীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়ে এই রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতাচ্যুত সরকারকে বেআইনিভাবে বৈধতা দিতে প্রধান অনুঘটকের কাজ করেছিল। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা। আন্দোলনের মূল সংগঠকরা মনে করেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এখনো বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে এবং এর পেছনে পেছনের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করা জরুরি।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে বক্তারা অবিলম্বে জিএম কাদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে ছাত্র-জনতা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয় এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


