সংবাদ · সাধারণ
এবার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইতালিও
১৯/১০/২০২৬

পুলিশের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, দুই দিনে আহত দেড় শতাধিক কর্মকর্তাব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট, উইকেন্ডে গ্রেপ্তার ছাড়াল দুই শতাধিকসহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা মেলোনিরফ্রান্সের আদলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত কর চাপানোর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ইতালি। ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে দেশটির বিভিন্ন শহরে শনিবার ও রোববার এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।এতে মিলান, তুরিন, বোলোনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ১৪১ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের তুলনায় রোববারের বিক্ষোভ ছিল আরও বিশাল ও ভয়ানক।পুলিশ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত মোট ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।এর আগে শনিবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করার অভিযোগে আরও ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে ১২ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই প্রকট ছিল, মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, ব্রেসিয়ায় ৬০০ এবং বেরগামোতে ৮০০ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। মিলানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, কাচের বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড ছুড়তে শুরু করেন।এর জবাবে পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের কেন্দ্রস্থলে বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং ইতালির সামরিক পুলিশের একটি গাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। ইতালির খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিও জানিয়েছে, গত দুই দিনের এই ব্যাপক সহিংসতা ও বিক্ষোভে দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ ইউরোরও বেশি মূল্যের আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তুরিনে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং ‘মলোটভ ককটেল’ তথা পেট্রোলবোমা বহনের অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতারা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, জনগণের ক্ষোভের পেছনে যৌক্তিক কারণ থাকলেও পুলিশ অফিসারদের ওপর সহিংসতা ও শহরের ব্যাপক ক্ষতি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও এই অস্থিরতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং যারা বিক্ষোভকে সহিংসতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের থেকে দেশের তরুণ সমাজকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, তার দল ‘লিগ’ পার্লামেন্টে একটি বিশেষ প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করবে, যার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজকদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে বাধ্য করা হবে।অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বিক্ষোভের নামে সহিংসতা চালানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিরোধী দলগুলোর প্রতিও একই সুরে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ যে শান্তিপূর্ণভাবেও বিক্ষোভ করেছেন, তা তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗