কালবেলা · খেলাধুলা
ফেস্টিভ্যাল ছাপিয়ে আলোচনায় বুট
১৯/১০/২০২৬

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে জয়-পরাজয়ের চেয়ে অনেক ভিন্ন গল্পই বড় হয়ে ওঠে। কখনো ক্রীড়াসামগ্রী কেনার সামর্থ্য নেই বলে খালি পায়ে ট্র্যাকে নামা কোনো দৌড়বিদ শিরোনামে আসেন, কখনো সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া কোনো নারীর সাহসের গল্প লেখা হয়। এবার আলোচনার কেন্দ্রে একজোড়া বুট।
গল্পের মঞ্চ আজারবাইজানের বাকু। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে অংশ নিচ্ছে ১৯১ দেশ, তালিকায় আছে বাংলাদেশও। বাকু যাত্রার আগে কিশোরদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি কিশোরদের শোনালেন একটি পরিচিত আক্ষেপ—শেষ মুহূর্তে সুযোগ পেয়েও গোল না পাওয়া। তার আশা, এ দল সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে প্রতিটি সুযোগকে সাফল্যে রূপ দেবে। বক্তব্য শেষ হতেই অধিনায়ক সাহস করে তুললেন নিজেদের আবদার—‘সেরা নৈপুণ্যের জন্য চাই আরও উন্নত মানের বুট।’ প্রতিমন্ত্রী কালক্ষেপণ করেননি। ১৪ জনের মাপ অনুযায়ী পছন্দের বুট বাছাই করে খরচের হিসাব জানাতে বললেন কর্মকর্তাদের।
এ দ্রুত সিদ্ধান্তের পেছনে হয়তো লুকিয়ে আছে এক পুরোনো অভিজ্ঞতা। আমিনুল হক নিজেও একসময় বুট পায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। ২০০১ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গোলকিপার। ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের অধিনায়ক, ২০১০ সালের এসএ গেমসে আমিনুল হকের নেতৃত্বেই অনূর্ধ্ব-২৩ দল জিতেছিল স্বর্ণ। গোলবারের নিচে দাঁড়ানো একজন খেলোয়াড় ভালো করেই জানেন, পায়ের নিচের জুতাটি শুধু সরঞ্জাম নয়, আত্মবিশ্বাসেরও অংশ। সাবেক অধিনায়ক বর্তমান অধিনায়কের চোখে সেই আত্মবিশ্বাসের দাবিটাই হয়তো পড়তে পেরেছেন।
প্রতিমন্ত্রী কথা শেষ করেছেন একটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে। আসরে ভালো ফল এলে সরকারের পক্ষ থেকে অপেক্ষা করছে আরও বড় উপহার।
ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ভাগ করা হয়েছে ৩২ গ্রুপে, ২০ মাঠে হবে ৯৪৩ ম্যাচ। খেলা হবে আটজনের দলে, ২০ মিনিটের দুই অর্ধে। গ্রুপের ফল অনুযায়ী ছয় স্তরে ভাগ হয়ে ৩০ অক্টোবর ফাইনালের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবে প্রতিটি দল। অর্থাৎ কেউ একবার হেরে বিদায় নেবে না, প্রত্যেকের জন্য থাকবে খেলার সুযোগ। প্রতিটি দলে থাকবে ২০১১ বা ২০১২ সালে জন্ম নেওয়া ১৪ জন কিশোর। বাংলাদেশের দলও ঠিক এভাবেই, ১৪ জন কিশোরকে নিয়ে যাত্রার অপেক্ষায়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗