বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপের সুযোগ। যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ভাতাও পেতে পারেন। ২০২৬ সালের নির্ধারিত হারে বছরে ভাতার পরিমাণ ৩৯ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলার। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে আবেদনের সুযোগ।
কোন স্কলারশিপে কী সুবিধা
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ কর্মসূচির আওতায় মেলবোর্ন রিসার্চ স্কলারশিপ এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রাম উল্লেখযোগ্য। এগুলো মূলত গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য তৈরি। স্কলারশিপের পূর্ণ সুবিধা পাওয়া গেলে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্সের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর এবং ডক্টরাল বা পিএইচডি ডিগ্রির জন্য সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত টিউশন ফি মওকুফ হতে পারে। এর পাশাপাশি জীবনযাত্রার ভাতাসহ বৃত্তির ক্ষেত্রে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্সে সর্বোচ্চ দুই বছর এবং পিএইচডিতে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন বছর ভাতা দেওয়া হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের পূর্ণকালীন গবেষণা বৃত্তির হার অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ভাতা বছরে ৩৯ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলার। সাধারণত এই অর্থ প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর পরিশোধ করা হয়। তবে ২০২৭ সালে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভাতার হার ও অন্যান্য শর্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করতে হবে। কিছু স্কলারশিপে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একটি বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমা পলিসি এবং অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুদানও থাকতে পারে। তবে এসব সুবিধা সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
কারা আবেদন করতে পারবেন
এই স্কলারশিপের জন্য মূলত যারা মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স অথবা পিএইচডি ডিগ্রিতে ভর্তি হতে চান, তাদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারলে আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু ভালো ফল থাকলেই বৃত্তি নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পূর্ববর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, গবেষণাপত্র বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গবেষণাকাজ এবং প্রোগ্রামের উপযোগিতাও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচিত হতে পারে।
কীভাবে আবেদন করবেন
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নতুন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সাধারণত আলাদা স্কলারশিপ আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কোনো শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রিতে ভর্তির আবেদন করলে এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তাকে প্রযোজ্য স্কলারশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, শুধু স্কলারশিপের ফরম পূরণ করলেই হবে। প্রথমে নিজের পছন্দের গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রি নির্বাচন করতে হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় নথি ও সংশ্লিষ্ট কোর্সের শেষ তারিখ সম্পর্কে জানতে হবে।
আবেদনের সময় সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সনদপত্র, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ, জীবনবৃত্তান্ত এবং গবেষণা প্রস্তাবের মতো নথি প্রয়োজন হতে পারে। কোন নথি বাধ্যতামূলক হবে, তা নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম ও আবেদনকারীর শিক্ষাগত পটভূমির ওপর নির্ভর করবে।
নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী গুরুত্ব পায়
বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নপ্রক্রিয়ায় পূর্ববর্তী শিক্ষাগত অর্জন এবং গবেষণার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেয়। যারা আগে গবেষণার কাজে যুক্ত ছিলেন, থিসিস সম্পন্ন করেছেন অথবা প্রাসঙ্গিক গবেষণাপত্র ও অন্যান্য গবেষণাসংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বিষয়টির গুরুত্ব, গবেষণার উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য ফলাফল স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কী সুযোগ
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৭ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া কিছু আন্তর্জাতিক স্নাতক স্কলারশিপে যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন ফির ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন। এসব বৃত্তির যোগ্যতা ও সুবিধা গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স বা পিএইচডি স্কলারশিপের চেয়ে আলাদা। তাই আবেদনকারীর শিক্ষার পর্যায় অনুযায়ী সঠিক বৃত্তি খুঁজে নেওয়া জরুরি। স্কলারশিপ, যোগ্যতা, সুবিধা ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট দেখতে হবে।
