যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি। ক্ষেপণাস্ত্র, মহাকাশ প্রযুক্তি ও সামরিক শিল্পে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ৬৮ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা এখন দেশটির সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব সামলাবেন। খবর আল জাজিরার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্ট তার নিয়োগ অনুমোদন করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে পার্লামেন্টের অধিবেশন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আখলাঘির নিয়োগের পক্ষে ভোট দেন ২৩৭ জন আইনপ্রণেতা, বিপক্ষে ভোট দেন ১৫ জন।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর মজিদ ইবনে রেজা অস্থায়ীভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এখন তিনি আখলাঘির উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আখলাঘির ৪২ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কঠিন জ্বালানিচালিত রকেটের প্রপালশন প্রযুক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং সামরিক শিল্পে উৎপাদনব্যবস্থা তার বিশেষ দক্ষতার ক্ষেত্র।
এর আগে তিনি শহীদ বাকেরি শিল্পগোষ্ঠী, অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন এবং ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান ও আখলাঘির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায়ও রয়েছেন তিনি।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে ইরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন আখলাঘি।
ইরানের সেজ্জিল ও জোলফাগার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন সংস্করণ এবং আলমাস ক্ষেপণাস্ত্র ও ইয়াসিন নিয়ন্ত্রিত বোমার মতো নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের উন্নয়নেও তার ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের যান, গবেষণামূলক রকেট এবং সেমনান প্রদেশের ইমাম খোমেনি মহাকাশকেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নিয়েও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক চলতি মাসে সাংবাদিকদের বলেন, কৌশলগত অস্ত্রের পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়ানোর প্রয়োজন থেকেই আখলাঘিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি করেছে, তারা ইরানের সামরিক শিল্পের অধিকাংশ সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে তেহরানের বক্তব্য, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার নাগালের বাইরে এখনো তাদের উল্লেখযোগ্য আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা রয়েছে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব অস্ত্রের উন্নয়নও করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
চলতি মাসে পার্লামেন্ট সদস্যদের আখলাঘি জানান, যুদ্ধ চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে সামরিক বাহিনীর চাহিদা ভালোভাবে বোঝার জন্য তিনি আইআরজিসির সর্বাধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ওয়াহিদিসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তার অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে সামরিক শিল্পের দ্রুত উন্নয়ন, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
সূত্র : আল জাজিরা
