তৃণমূল আমলে কৃষিক্ষেত্রে ‘দালালরাজে’র অভিযোগ উঠত। কৃষকরা ফসলের দাম পেতেন না বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পরে বিজেপি সরকার কৃষক ও কৃষির উন্নতির বার্তা দিয়েছে। দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না, এমনই বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেই আবহে এবার দালালচক্রকে গণধোলাইয়ের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। কৃষিক্ষেত্রে উন্নতির জন্য রাজ্যে ড্রোন প্রযুক্তি ও এগ্রিস্ট্যাকের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকীকরণের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ কৃষি প্রদর্শনী ও সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। ময়ূরেশ্বর ২ ব্লক কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই কৃষকদের উন্নতি নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মন্ত্রী। পাশাপাশি দালালচক্রকে কড়া হুঁশিয়ারিও দিলেন। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের দেওয়া সুবিধা যাতে সরাসরি প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছায় এবং মাঝে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেন তিনি।
দুধকুমার বলেন, “কৃষি ও কৃষকের টাকায় কোনওরকম দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না। যদি কোথাও কোনও দালালচক্রের খোঁজ মেলে বা তারা কৃষকের পাওনা হাতানোর চেষ্টা করে, তবে কৃষকরা নিজেরাই তাদের বাড়ি থেকে বের করে এনে গণধোলাই দেবেন।” মন্ত্রী আরও জানান, প্রশাসন দালালদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে। তবে সাধারণ কৃষকদেরও এই বিষয়ে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
কীভাবে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাকে কৃষকরা রপ্ত করবেন, কেমন করে আধুনিকভাবে চাষবাস হবে? সেই বিষয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই হিসেবে বিশেষ কৃষি প্রদর্শনী ও সচেতনতা শিবিরও হয়। এই কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ফার্ম মেকানাইজেশন, এগ্রিস্ট্যাক কর্মসূচি। শুধু তাই নয়, ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যাধুনিক কৃষিচর্চার বাস্তব প্রদর্শনীও হয়। এই কর্মসূচি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের এগ্রিস্ট্যাকের রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্র এবং বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির বীজ তুলে দেন কৃষিমন্ত্রী। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কীভাবে চাষে খরচ কমবে? কীভাবে ফলন বাড়ানো সম্ভব হবে? সে বিষয়ে কৃষকদের বিস্তারিত আলোচনা হয়।
