পূর্নিমা রানী দাস বিশেষ প্রতিনিধি, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর):
একসময় যা কেবল মাছ কেনাবেচার ব্যস্ততায় মুখর ছিল, সেই ‘সাজু মোল্লার ঘাট’ এখন এক নতুন পরিচয়ের পথে। মেঘনা নদীর কোলঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর উপজেলা প্রশাসনের ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে জায়গাটি এখন রায়পুর উপজেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা এখানে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে আসছেন। দর্শনার্থীদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে ঘাটের আশপাশে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকান, চায়ের স্টল ও নানা ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যা স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র অর্থনীতির এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের মন্তব্য মেঘনার পাড়ে ঘুরতে আসা ইউছুফ নামের এক দর্শনার্থী বলেন, “মেঘনার পাড়ের পরিবেশটা বেশ সুন্দর। নদীর বাতাস আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি মন ছুয়ে যায়। পরিবার নিয়ে কিছু সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি সত্যিই চমৎকার। তবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও নিরাপত্তার দিকে প্রশাসন আরও নজর দিলে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।”
আরেক দর্শনার্থী খয়ের জানান, “বিকেলে নদীর পাড়ে এলে মন ভালো হয়ে যায়। ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’-এর মতো উদ্যোগ মানুষকে সচেতন করতে পারে। এখানে ঘুরতে এসে নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি গাছ লাগানোর বিষয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
তরুণ দর্শনার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে অবসর কাটানোর জন্য জায়গাটি দারুণ। তবে সৌন্দর্য ধরে রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিত।”
দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ায় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখেও হাসি ফুটেছে। ঘাটসংলগ্ন খাবারের দোকানদার আবু কালাম বলেন, “দর্শনার্থীরা আসা-যাওয়া করায় আমাদের চায়ের ও খাবারের ব্যবসা ভালো হচ্ছে। জায়গাটি আরও পরিচ্ছন্ন ও সুসংগঠিত হলে মানুষের আগমন আরও বাড়বে।”
ব্যবসায়ী আরিফ জানান, “ঘাটকে ঘিরে আমাদের রুটি-রুজির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদেরও উচিত নিজ নিজ দোকানের চারপাশ পরিষ্কার রাখা। আমরা সবাই সচেতন হলে জায়গাটির সুনাম ছড়িয়ে পড়বে।”
সম্ভাবনা ও নাগরিক প্রত্যাশা
পর্যটন বিকশিত হলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন কর্মী ও সেবাদাতাদের আয় বৃদ্ধির পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে এ সম্ভাবনাকে ধরে রাখতে পরিচ্ছন্নতা, মানসম্মত সেবা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ‘সাজু মোল্লার ঘাট’ লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম সেরা বিনোদন কেন্দ্রে রূপ নেবে। এ জন্য পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল, রাতের পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বসার সুন্দর ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নদীপাড়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলা বন্ধে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো জরুরি।
পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সাজু মোল্লার ঘাটের এই ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’ উদ্যোগ সবার মাঝে দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব রায়পুর গড়ার প্রেরণা হয়ে উঠুক—এমনটাই প্রত্যশা স্থানীয় অধিবাসীদের।
The post রায়পুরে প্রশাসনের নজরদারিতে সাঝু মোল্লার ঘাট: গড়ে উঠছে নতুন বিনোদন কেন্দ্র appeared first on সকালের খবর ২৪.
