গত ৮ অক্টোবর জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার নিরাপত্তা নিয়ে শুনানিতে আলোচনা হয়। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তাব দিয়েছিল, সরাসরি হাজির করা নিরাপদ না হলে তাকে কারাগার থেকেই ভিডিও সংযোগে শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি। আদালতের অনুমতি নিয়ে এখন থেকে কারাগারে বসেই ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে মামলার শুনানিতে অংশ নেবেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানির দিন এ তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
তিনি বলেন, কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার সময় নিরাপত্তাঝুঁকি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জিয়াউল আহসান ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার নিরাপত্তা নিয়ে শুনানিতে আলোচনা হয়। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তাব দিয়েছিল, সরাসরি হাজির করা নিরাপদ না হলে তাকে কারাগার থেকেই ভিডিও সংযোগে শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
ওই শুনানিতে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার বলেন, অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা-নেওয়া করা হলেও গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তার ভাইকে আলাদা প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হচ্ছে। এতে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাজনীন নাহারের বক্তব্য ছিল, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একা আনা-নেওয়ার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অন্য আসামিদের সঙ্গে তাকে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। অন্য আসামিদের একা আনা না হলেও জিয়াউল আহসানকে কেন পৃথকভাবে নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে তাকে ট্রাইব্যুনালে না এনে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কারাগার থেকেই আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের এ প্রস্তাবে আপত্তি জানান নাজনীন নাহার। অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা-নেওয়া করা হলে নিরাপত্তার সমস্যা কোথায়, তা জানতে চান তিনি।
শুনানির একপর্যায়ে জিয়াউল আহসান নিজেও বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পেয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে একা গাড়িতে করে আনার পেছনে এমন উদ্দেশ্য থাকতে পারে, যাতে কোনো ঘটনা ঘটিয়ে পরে তার ওপর দায় চাপানো যায়।
