Published on
:
2 min read
ফ্রান্সের ছাত্র বিক্ষোভ আর দিল্লির আন্দোলন একসূত্রে বাঁধা বলে দাবি করল ফক্স নিউজ়। বৃহস্পতিবার একটি ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তারা। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভের প্রচার এবং আয়োজনের সঙ্গে ১৩টি দেশের ১০১টি সংগঠন যুক্ত। তারা ফ্রান্স, ইটালি থেকে ভারতের বিক্ষোভ-আন্দোলনের নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফ্রান্সে ‘ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিস’ (IAP) নামে একটি সংগঠন রয়েছে। ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় ছাত্র ও গবেষকদের নিয়ে তৈরি এই সংগঠন মূলত গণতন্ত্র এবং সাম্যের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে। ভারতের ছাত্র বিক্ষোভ এবং আন্দোলনের সমর্থনে ওই সংগঠন একাধিক পোস্ট করেছে বলে দাবি ফক্স নিউজ়ের। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা লিখেছিল — ফ্রান্সে। ভারতে। জেন জ়ি-কে কুর্নিস।’
ফক্স নিউজ়ের আরও দাবি, গত ১৬ অক্টোবর ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন সংগঠনের সদস্যরা। সেখানে ফ্রান্স, স্পেন, ভারত ও আলবেনিয়ার ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গও ওঠে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে কি না, সেই নিয়েও আলোচনা করেন বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা।
ফক্স নিউজ়ের রিপোর্টে উঠে এসেছে আমেরিকান শিল্পপতি নেভিল রয় সিংহমের নাম। তিনি বর্তমানে চিনের সাংহাইতে থাকেন। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্ট সংগঠনের যোগ রয়েছে বলে দাবি। তিনি ব্রেকথ্রু নিউজ়, ট্রাইকন্টিনেন্টাল, পার্টি ফর সোশ্যালিজ়ম অ্যান্ড লিবারেশনের মতো একাধিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। (তবে ওই শিল্পপতি ‘ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিস’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন।) ফক্স নিউজ়ের অভিযোগ, বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে ছাত্র বিক্ষোভ-সহ একাধিক আন্দোলনের প্রচার চালিয়েছে এই সংগঠনগুলি।
নিজেদের দাবির সমর্থনে বেশ কিছু উদাহরণও দিয়েছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যমটি। তাদের দাবি, ফ্রান্স ও ভারতের বিক্ষোভকে সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক আন্দোলন বলে দাবি করেছে বেকথ্রু নিউজ়। ট্রাইকন্টিনেন্টালের প্রধান বিজয় প্রসাদ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্যারিস-নয়াদিল্লি-বুয়েনস আইরেস’ শিরোনামে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে ফ্রান্স ও ভারতের প্রসঙ্গ টেনে দুই দেশের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আন্দোলন শুরু করেছিলেন প্যারিসের স্কুলছাত্ররা। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে স্কুল-কলেজে উন্নত পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করুক সরকার। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে প্রায় গোটা দেশে। তার পর থেকেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নিতে শুরু করে। তার আগে মে মাসে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। পরে অক্টোবর নাগাদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নতুন করে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। এতে ককরোচদের পাশাপাশি বিরোধীদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
