আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘মারাকেশের বুকে ইতিহাস আর স্থাপত্যের এক বিস্ময় 'কুতুবিয়া মসজিদ'’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
মরক্কোর মারাকেশ শহরের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা কুতুবিয়া মসজিদ (Koutoubia Mosque) শুধু একটি উপাসনালয় নয়—এটি এক হাজার বছরের ইতিহাস আর ইসলামি স্থাপত্যের এক জীবন্ত নিদর্শন।
১২ শতকের মাঝামাঝি, আলমোহাদ রাজবংশের খলিফা আব্দ আল-মু’মিন এই মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন। নির্মাণ শুরু হয় ১১৪৭ খ্রিস্টাব্দে। প্রথম মসজিদটির কাঠামো নির্মাণের পর আবিষ্কৃত হয় যে কিবলার দিক ভুল হয়েছে।
ফলে খলিফার আদেশে মসজিদটি পুনরায় সঠিক কিবলামুখী করে নতুন করে নির্মাণ করা হয়। এই ইতিহাস কুতুবিয়া মসজিদের অভ্যন্তরে দুটি ভিন্ন নকশার ছাপ রেখে গেছে।
অবস্থান: মারাকেশের দক্ষিণ-পশ্চিম মদিনায়, বিখ্যাত জেমায়ে এল-ফনা চত্বরের কাছে।
নির্মাণকাল: ১১৪৭ সালে আলমোহাদ খিলাফতের খলিফা আব্দ আল-মু'মিন প্রথম মসজিদটির নির্মাণ শুরু করেন এবং বর্তমান মসজিদটি প্রায় ১১৫৮ সালে পুনর্নির্মাণ করা হয়। খলিফা ইয়াকুব আল-মানসুরের আমলে ১১৯৫ সালের দিকে এর সুবিশাল মিনারটির কাজ সম্পন্ন হয়।
নামকরণ: আরবি শব্দ 'কুতুবিয়্যিন' থেকে এই নামকরণ হয়েছে, কারণ একসময় এই মসজিদের আশেপাশে অনেক বইয়ের দোকান বা বাজার ছিল।
মিনার: মসজিদটির প্রধান আকর্ষণ এর প্রায় ৭৭ মিটার (২২১ ফুট) উঁচু মিনার। এটি আলমোহাদ স্থাপত্যের একটি মাস্টারপিস এবং সেভিলের জিরান্ডা বা রাবাতের হাসান টাওয়ারের মতো বিখ্যাত মিনারগুলোর জন্য এটি মডেল হিসেবে কাজ করেছিল।
নকশা: এতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার নালের মতো খিলান মুকারনাস কুপোলা এবং চমৎকার কারুকার্যখচিত দেয়াল।
মিনারচূড়া: মিনারের চূড়ায় চারটি তামার গোলক রয়েছে
কুতুবিয়া’ নামের অর্থ "বই বিক্রেতাদের মসজিদ"—কারণ এক সময় মসজিদের চারপাশে শতাধিক বইয়ের দোকান ছিল। এই নামই প্রমাণ করে মারাকেশ ছিল জ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতির একটি বড় কেন্দ্র।
মসজিদের মিনারটি প্রায় ৭৭ মিটার (২৫৩ ফুট) উঁচু, এবং এটি পরে স্পেনের সেভিয়ার "লা গিরালদা" এবং রাবাতের "হাসান টাওয়ার"-এর ডিজাইনের অনুপ্রেরণা হয়েছে।
আজও এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র নয়, বরং মারাকেশ শহরের আত্মার প্রতীক। সূর্যাস্তের আলো যখন মিনারের ওপর পড়ে, তখন এর সৌন্দর্য ইতিহাসের সাথে মিশে যায় এক অপূর্ব দৃশ্য।

