মোঃ তানজিল ॥
ভোলা সরকারি কলেজে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হলেও, একই দিনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করায় সৃষ্ট জটিলতায় শেষ পর্যন্ত সেই অনুমতি বাতিল করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এর আগে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে, আইনশৃঙ্খলা ও ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনো পক্ষকেই কলেজ মাঠে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, এর আগেই ছাত্রশিবিরকে লিখিতভাবে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ছাত্রশিবির নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে লিখিতভাবে অনুমতি চাইলেও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রথমে কোনো ধরনের লিখিত আবেদন দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট নথি ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোলা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলামিন কলেজের ছায়াবিথি মাঠে ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের অনুমতি প্রদান করে।
কিন্তু পরবর্তীতে একই দিন ও একই স্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই স্থানে দুটি সংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর জামাল হোসেন জানান, “প্রথমে ছাত্রশিবির লিখিত আবেদন করায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের নির্দিষ্ট তারিখে অনুষ্ঠান করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রদল কোনো ধরনের লিখিত অনুমতি না নিয়েই একই দিনে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পূর্বে প্রদত্ত শিবিরের অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাউকেই মাঠে জমায়েত বা কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।”
এদিকে এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত ইফতি দাবি করেন, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকেও কলেজের ১৬টি বিভাগ নিয়ে আঃন্ত বিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর কলেজ প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিতে গেলে তারা গ্রহণ করেননি। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে আসা ছাত্রদলের আবেদন পত্রে একই দিনে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।