আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রপুঞ্জের সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিবেদনে কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী দাউদ ইব্রাহিমকে ভারতে অবস্থানকারী বলে উল্লেখ করায় তীব্র আপত্তি জানাল ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ প্রতিবেদক বেন সলের পেশ করা রিপোর্টে এই তথ্যগত ভুল রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, এই ধরনের ভুল তথ্য শুধু বিভ্রান্তি ছড়ায় না, রাষ্ট্রপুঞ্জের মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের সন্ত্রাসবাদ দমন ও মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক বেন সল গত জুলাই মাসে তাঁর রিপোর্ট পেশ করেন। সেই রিপোর্টে দাউদ ইব্রাহিমকে ভারতে অবস্থানকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরী এই তথ্যের বিরোধিতা করে বলেন, বিষয়টি সরকারি নথির জন্য স্পষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন।
https://x.com/IndiaUNNewYork/status/2113095437414461567
পুরীর বক্তব্য, ২০০৩ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের তালিকাভুক্ত হওয়ার অনেক আগেই ভারত ছেড়ে পালিয়েছিল দাউদ। ভারতের দাবি, আল কায়দা এবং ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পুরী আরও বলেন, দাউদ এখনও ভারতের একজন মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত তালিকায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সে সেই দেশেই রয়েছে, যেখানে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং পরে হত্যা করা হয়েছিল। ইঙ্গিতটি পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের দিকে, যেখানে ২০১১ সালে মার্কিন অভিযানে বিন লাদেন নিহত হন।
ভারতের অভিযোগ, রিপোর্টে ২০০৩ সালে নিরাপত্তা পরিষদের তালিকাভুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও দাউদ ও তার সংগঠন ডি-কোম্পানির বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সাল থেকে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলার অভিযোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে তার খোঁজ চলার বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। রাষ্ট্রপুঞ্জের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার অধীনে তালিকাভুক্তির কারণ সংক্রান্ত বিবরণেই এই তথ্য রয়েছে বলে দাবি ভারতের। পুরীর মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট বাদ দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এমন ভুল আন্তর্জাতিক সংস্থার ভাবমূর্তির ক্ষতি করে।
পাকিস্তানে ভারতের একাধিক মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীর আশ্রয় নেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলায় জড়িতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। ভারতের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লে তবেই কখনও কখনও পাকিস্তানের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রিপোর্টের বিভিন্ন অংশে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে পুরী বলেন, সন্ত্রাসবাদে মদতদাতারা নিজেদের কাজের পক্ষে যুক্তি দেখাতে মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদ দমনের কাঠামোকে ব্যবহার করছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের নিরপেক্ষতা ও সততা বজায় রাখার আবেদনও জানান তিনি।
পাশাপাশি, রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের প্রতিনিধির ভারত-বিরোধী বক্তব্যকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে করা প্রচার বলে কটাক্ষ করেন পুরী। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
