নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের অভিযানে ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানা-পুলিশের অভিযানে ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ নুরুল আজিম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানাধীন পুরাতন বাসস্টেশনের সামনে পাকা সড়কে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় আটক নুরুল আজিম (২০) পিতা মুক্তার আহমেদ ও মাতা মমতাজ বেগম। তাঁর বাড়ি কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোরাকাছা গ্রামে, থানা রামু, জেলা কক্সবাজার। পুলিশ জানায়, একটি টমটমের (ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক) পেছনের অংশে ঢালাই করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ছয়টি কাট থেকে সর্বমোট ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত টমটমটিও জব্দ করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ ধরার দায় তার জেলে আটক ও২৪ লাখ টাকার অবৈধ জাল জব্দ
দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৪ জেলেকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ১টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও ১ লক্ষ ২০ হাজার মিটার অবৈধ ইলিশ জাল জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ফাঁড়ি ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন,পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার গছানী ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মো. সুজন হাওলাদার (৩০) ও মো. মনির হোসেন গাজী (৩৫)। অপর দুজন হলেন একই উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের বাদশা চৌককদার (৩৫) ও নাসির সরদার (৩০)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সকাল থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটক জেলেদের সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও জব্দকৃত ১ লক্ষ ২০ হাজার মিটার অবৈধ ইলিশ জাল হাজিরহাট এলাকায় তেতুলিয়া নদীর তীরে জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, উপজেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, দশমিনা থানা, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২৪ লাখ টাকা। সকালে দুই আসামিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরে আরও দুজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধার করা জাল ধ্বংস করা হবে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং রাতের মধ্যে আরও অবৈধ জাল উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

টঙ্গিবাড়ীতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, ১৯ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া গ্রামে এক দুবাইপ্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৯ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। চোরেরা বাড়িতে থাকা নারীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের শরীরে থাকা স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দুবাইপ্রবাসী মহিউদ্দিন খান। মহিউদ্দিন খান মুঠোফোনে জানান, ঘটনার সময় ৩ থেকে ৪ জন চোর প্রথমে বাড়ির প্রবেশপথে থাকা আইপি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। পরে ক্যামেরার মেমোরি কার্ড খুলে নিয়ে তারা ঘরে প্রবেশ করে। মুখে গামছা পেঁচিয়ে ঘরে ঢুকে আলমারি থেকে নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, আংটি ও রুপার নূপুরসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৯ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও জানান, এ সময় চোরেরা তাঁর মা, স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছে থাকা স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায়। তিনি দুবাইয়ে থাকেন এবং তাঁর বড় ভাই ঢাকায় ব্যবসা করেন। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে চোরেরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। মহিউদ্দিন খান বলেন, “অনেক কষ্ট করে উপার্জন করা টাকা ও স্বর্ণালংকার চোরেরা নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।” বাড়িতে থাকা মহিউদ্দিন খানের মা হাওয়া বেগম বলেন, “চোরেরা মুখে গামছা পেঁচিয়ে ঘরে ঢুকেছিল, তাই তাদের চিনতে পারিনি। আমার গলার চেইন খুলতে দেরি হওয়ায় তারা আমাকে অস্ত্রের ভয় দেখায়। চিৎকার-চেঁচামেচি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে ঘরের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায়।” ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মহিউদ্দিন খানের বড় ভাই মোস্তফা খান ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। পরে তিনি এ ঘটনায় টঙ্গিবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। টঙ্গিবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম আহমেদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। চোর শনাক্তের চেষ্টা চলছে।” এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জেলা বিএনপির সভা
শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত একক প্রার্থী নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের বশির উদ্দিন ভিলা মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান হাছিব। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। সভায় দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং নির্বাচনে দল-সমর্থিত একক প্রার্থী নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা ও সমন্বিতভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার ওপর আলোচনা করা হয়। সভায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পশ্চিম বিএনপি, সদর উপজেলা পূর্ব বিএনপি, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপি ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

যশোরে দুর্গাপূজার ব্যাপক প্রস্তুতি,নিরাপত্তায় ২ হাজার বিজিবি সদস্য
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও উৎসবের আমেজে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে যশোরের পূজামণ্ডপগুলো। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখা। অন্যদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, এপিসি প্লাটুন এবং কে-৯ ডগ স্কোয়াড। বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর শহরের লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার যশোর জেলার আটটি উপজেলায় মোট ৭২৯টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর সদরে ১৩৫টি, অভয়নগরে ১৩৩টি, মনিরামপুরে ১৩১টি, কেশবপুরে ১০২টি, বাঘারপাড়ায় ৮২টি, ঝিকরগাছায় ৬১টি, চৌগাছায় ৫৩টি এবং শার্শায় ৩২টি মন্দির ও মণ্ডপ রয়েছে। ১৫ অক্টোবর সকালে বোধন ও বিকেলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে যশোর শহরের লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, বিকল্প আলোর ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রবীণদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। উৎসব চলাকালে অপ্রীতিকর ঘটনা ও উত্তেজনা এড়াতে ক্ষতিকর ও উসকানিমূলক গান পরিবেশন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় উৎসবকে সর্বজনীন আনন্দের আয়োজনে পরিণত করতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় হিন্দু-মুসলিম জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে সম্প্রীতি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করছেন। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও উপলক্ষ। উৎসবের আনন্দ যেন সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে তাঁরা সতর্ক রয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে। এদিকে দুর্গাপূজা ঘিরে যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা ও শহরের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)। ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ২৯টি এবং যশোর শহরে ২০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত টহল, রেকি ও মোবাইল পেট্রোল পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, আনসার ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা ৫২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে এপিসি প্লাটুন ও কে-৯ ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী বিওপিগুলোতে জনবল বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। উৎসবের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক রতন আচার্য্য, প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি রবিন কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সাহা এবং পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক উৎপল কুমার ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

