ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন কে আন্নামালাই। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি গত তিনদিন ধরেই সরব নিজেরই পুরনো দলের বিরুদ্ধে। একদা যে দল তাঁকে রাজনৈতিক মঞ্চ দিয়েছে, সেই দলের বিরুদ্ধেই তাঁর লাগাতার ‘গোলাগুলি বর্ষণ’ এই মুহূর্তে দক্ষিণ রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে কেন আন্নামালাই এতটা আক্রমণাত্মক? রাজ্যের অন্য যে কোনও বিরোধী নেতার চেয়ে তিনি এখন বিজেপির বিরুদ্ধে বেশি সরব! এতটা উষ্মার কারণ কী হতে পারে? নিজের রাজনৈতিক উদ্যোগ ‘উই দ্য লিডার্স’-কে গত একবছর ধরে তিনি তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন। তাঁর ‘পাখির চোখ’ ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। সম্ভবত তিনি তাঁর এই উদ্যোগকে সামনে রেখেই একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে চান। কিন্তু তাঁর একটা বড় সমস্যা হল গায়ে ‘বিজেপির বি টিম’ জাতীয় ট্যাগ! তাই আন্নামালাইয়ের আপাতত মূল কৌশল হল সেই তকমাটা মুছে ফেলা। আর সেই কারণেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে চলেছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল এটুকুতেই আটকে থাকলে কিন্তু আন্নামালাইয়ের পক্ষে বিরাট রাজনৈতিক ফায়দা তোলা সম্ভব নয়। কেবল নিজেকে বিজেপি থেকে আলাদা করা নয়, বরং তাঁকে ভোটারদের বোঝাতে হবে যে, তামিলনাড়ুতে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি যে রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন, তার বাইরেও তাঁর দেওয়ার মতো উল্লেখযোগ্য অনেক কিছু রয়েছে।
প্রাক্তন আইপিএস আন্নামালাই তামিলনাড়ুতে বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। নিয়মিত ডিএমকে, এআইএডিএমকের মতো দলকে আক্রমণ করতেন। তামিলনাড়ুর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিপরীতে নতুন প্রজন্মের এক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু এহেন আন্নামালাই এখন বিজেপির বিরোধী। তাঁকে এবার নিজের গা থেকে ‘পদ্ম-গন্ধ’ ঝেড়ে ফেলতে হবে। তবেই তিনি নিজেকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। আপাতত তাই তাঁর এহেন রণং দেহি ভঙ্গি।
