২০২২ সালের দেশের মাটিতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে এক অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান। দশম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে সেদিন ভারত বধ করেছিল টাইগাররা। মিরাজকে সেদিন সঙ্গ দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। আজ সেই জয়ের কথাই মনে করিয়ে দিলেন পাকিস্তানের শাদাব খান ও হারিস রউফ। ত্রিদেশীয় সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দশম উইকেটে ৮৯ রানের অপ্রতিরোধ্য জুটি গড়ে দলকে এক অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন শাদাব। তাকে সঙ্গ দিয়ে গেলেন রউফ।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। শুরুতেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনজন ব্যাটার। আউট হওয়ার আগে ফখর জামান ১০, সাইম আইয়ুব ৬ ও বাবর আজম ১০ রান করেন।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে চাপ সামলেই নিয়েছিলেন সাদ বেগ ও সালমান আগা। কিন্তু এই দুই ব্যাটার ফিরলে ক্রিজে দাঁড়াতেই পারছিলেন না কেউ। ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকেই গিয়েছিল স্বাগতিকরা। ব্যাট হাতে সাদ বেগ ৩২, সালমান আগা ২৬, হাসান নেওয়াজ ১৫, আরাফাত মিনহাস ১, শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪ ও রাজানুল্লাহ ৮ রান করেন।
দশম উইকেটে যখন হারিস রউফ ব্যাট করতে নামেন, তখনও জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল ৮৮ রানের। ম্যাচের এমতাবস্থায় রউফকে নিয়ে লড়াইয়ে চালিয়ে যান শাদাব। একের পর এক চার-ছক্কায় নিজের ফিফটি পূরণের পাশাপাশি সেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি। আর ৮৮ রানের অপ্রতিরোধ্য জুটি গড়ে দলকে এনে দেন অবিশ্বাস্য এক জয়।
৮৮ রানের জুটি রউফের অবদান মাত্র ৭ রান। ম্যাচ শেষে ১১৩ রানে অপরাজিত থাকেন শাদাব।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। মাত্র ১৯ রান তুলতে না তুলতেই সাজঘরের পথ ধরের তিন ইংলিশ ব্যাটার। খানিক বাদে সাজঘরে ফেরেন জর্ডান কক্সও। তাতেই চাপে পড়ে তারা। আউট হওয়ার আগে টম ব্যান্টন ৪, জো রুট ৫, হ্যারি ব্রুক ১ ও জর্ডান কক্স ৬ রান করেন।
পঞ্চম উইকেট জুটিতে স্যাম কুরানকে নিয়ে চাপ সামলে নেন ওপেনার বেন ডাকেট। দুজনই ইতিবাচক ব্যাটিং করতে থাকেন। এই জুটিতে আসে ৯৭ রান। তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। কিন্তু কারান-ডাকেট ফেরার পর সুবিধা করতে পারেননি কেউই। ৫২ বলে ৪২ রান করেন কারান। এদিকে সেঞ্চুরি পূরণের পর ডাকেট থামেন ১০৫ রানে।
শেষ উইকেটে অভিষিক্ত হেনরি ক্রোকোম্বিকে নিয়ে দলীয় স্কোরে কিছু রান যোগ করেন গাস আটকিনসন। মাত্র ২৮ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর ১৪ বলে ৮ রান করেন ক্রোকোমবে।
পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার দলনেতা শাহিন শাহ আফ্রিদি। ৪৬ রানের খরচায় সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন তিনি। দুটি করে উইকেট নেন রাজানুল্লাহ ও আরাফাত মিনহাস। আর একটি উইকেট নেন হারিস রউফ।
এমএমএম/
