বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে এক দম্পতি ও ওই নারীর মাকে মারধর, ঘরের দরজা ভাঙচুর এবং মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কানিজ ফাতেমা (৩০) বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কানিজ ফাতেমা কাশিমপুর মৌজায় রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ৬৭ শতক জমি কিনেছেন। জমিটি নামজারি করার পাশাপাশি নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করছেন তিনি। ওই জমিতে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে স্বামী আসলাম মল্লিক ও মাকে নিয়ে বসবাস করেন। তবে তাঁকে জমি থেকে উচ্ছেদ করতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্তরা ১০ দিন কারাগারে ছিলেন বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী। গত ১৪ অক্টোবর মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল।
কানিজ ফাতেমার অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি, তাঁর স্বামী ও মা ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় শরিফুল ফকির, শাহানারা বেগম, আশা ফকির, আজাদ হাওলাদার ও রাজু হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা আরো পাঁচ থেকে ছয়জন তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁরা ঘরের দরজা খুলতে বলেন। দরজা না খোলায় ঘরের দুই পাশের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। একপর্যায়ে তাঁরা মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে কানিজ ফাতেমা ও তাঁর স্বামীকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ ছাড়া তাঁর মাকে চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া এবং কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় কানিজ ফাতেমার কাছ থেকে একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কানিজ ফাতেমা জানান, ঘটনার পর তাঁরা ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে বাগেরহাট সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। এরপর চিকিৎসার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে যাওয়ার পথে তাঁদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হন।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/১৬/১০/২০২৬
