চিতলমারী প্রতিনিধি অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
চিতলমারী উপজেলা হেলিপ্যাড। হেলিপ্যাডের পাশে বসবাস করে ঋষি (দলিত) সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার। এদের মধ্যে একটি পরিবার সুজন বিশ্বাসের (৩৫)। জীবিকার তাগিদে উপজেলা সদর বাজারের ফুটপাতে ঋষি’র কাজ করেন তিনি। দিনে দুইশ থেকে তিনশ টাকা আয় হয়। এ দিয়েই কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে তাদের সংসার চলে। কিন্তু এই অভাবের সংসারে তাকে সার্বক্ষণিক মানসিক পীড়া দিত বাড়ির সামনে বিশাল ময়লার ভাগাড়। বাজারের টনকে টন ময়লা প্রতিদিন এই ভাগাড়ে ফেলা হয়। যা পরিবেশ ও অনাগত শিশুদের জন্য চরম বিপজ্জনক। সেই পরিবেশ ও সন্তানদের রক্ষার কথা ভেবে সুজন পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানি তেল উৎপাদনের পদক্ষেপ নেন। সামান্য জুতা-স্যান্ডেল সেলাইয়ের আয়ের টাকা দিয়ে তিনি সংসার চালানোর পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানি তেল উৎপাদনের কারখানা। তাঁর উৎপাদিত জ্বালানি দিয়ে চলছে শ্যালো ইঞ্জিন ও মোটরসাইকেল।
সুজন বিশ্বাস বলেন, উপজেলার পুরো বাজারের ময়লা আবর্জনা আমাদের বাড়ির সামনে ফেলে রাখে। খোলা বাতাসে ওরা পলিথিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ধোঁয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের দম আটকে আসে। এ কারণে মাথায় আসে কীভাবে পরিবেশটা রক্ষা করা যায়। আমি ইউটিউব দেখে দেখে পরিবেশ রক্ষার জন্য এ ‘পলিথিন বার্ন ইউনিট’ তৈরি করেছি। এতে একদিকে পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে এবং অন্য জ্বালানি তেল উৎপাদন হচ্ছে।
সুজন আরও জানান, প্রতিদিন তিনি ৪০ কেজি পলিথিন বিশাল আটকা সিলিন্ডারে পোড়ান। ৪০ কেজি পলিথিন পোড়াতে তাঁর ৫ মন কাঠ ও ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এ পলিথিন পুড়িয়ে তিনি ১৫ লিটার ডিজেল, ৪ লিটার পেট্রোল ও ১ লিটার অকটেন পান। এর মধ্যে ১৫ লিটার ডিজেল পরিশোধিত করতে হয়। তাঁর উৎপাদিত পেট্রোল ও ডিজেল দিয়ে বর্তমানে শ্যালো ইঞ্জিন ও মোটরসাইকেল চলছে। তিনি তাঁর বহু কষ্টে গড়া প্রকল্পটি সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি অথবা বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নসিমনচালক মোঃ রাসেল মোল্লা জানান, তিনি সুজনের কাছ থেকে ডিজেল কিনে শ্যালো ইঞ্জিন নসিমন চালাচ্ছেন। তাতে এখন পর্যন্ত তার কোনো অসুবিধা হয়নি।
সদর বাজারের ব্যবসায়ী সুবল কর্মকার জানান, সুজনের উৎপাদিত পেট্রোলে রীতিমতো মোটরসাইকেল চলছে। এতে পরিবেশের উপকার হচ্ছে, অন্যদিকে আয়ও হচ্ছে।
চিতলমারী উপজেলা পরিবেশ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এ্যাড. ফজলুল হক বলেন, “পলিথিন পরিবেশের জন্য হুমকি। সুজন যে পদক্ষেপ নিয়েছে এটা প্রশংসার দাবি রাখে। আমাদের সকলের উচিত সুজনকে সহযোগিতা করা।
চিতলমারী ইউএনও খাদিজা আক্তার জানান, পলিথিন পুড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি তেল উৎপাদনের খবর আমরা পাচ্ছি। সুজন যে প্রক্রিয়ায় পলিথিন পুড়িয়ে ধ্বংস করছে তাতে পরিবেশের উপকার হচ্ছে।
খুলনা গেজেট/এনএম
