কালবেলা · সাধারণ
মেঘনায় আগুনের গোলা ও ইট-পাথর নিয়ে ইলিশ শিকার, যৌথবাহিনীর ওপর হামলা
১১/১০/২০২৬

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বরিশালের মেঘনা নদীতে তাণ্ডব চালাচ্ছে অসাধু জেলেরা। হাতুড়ি, বাঁশ, টেঁটা, ইট-পাথরের পাশাপাশি সুতা দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি ‘আগুনের গোলা’ ছুঁড়ে অভিযানিক দলের ওপর দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে তারা। ফলে অপ্রতুল নৌযান ও কম জনবল নিয়ে চরম আতঙ্কের মুখে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশকে।
হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাধীন মেঘনা নদীর প্রায় ৮২ কিলোমিটার অংশ মা ইলিশের অন্যতম প্রধান বিচরণক্ষেত্র। চলমান সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অঞ্চলে নিয়মিত টহল চলছে। তবে অভিযান প্রতিহত করতে জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে সহিংস পথ বেছে নিয়েছে।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত পর পর দুই দিন মেঘনা নদীতে জেলেরা অভিযানিক দলের ওপর চড়াও হয়। সর্বশেষ শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে মূল মেঘনা নদীতে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের যৌথ অভিযানে ইলিশ শিকাররত ৬টি ফিশিংবোট দেখতে পেয়ে ধাওয়া করা হয়।
এ সময় নদী থেকে জাল উদ্ধারের চেষ্টা করলে ছয়টি ট্রলার নিয়ে শতাধিক জেলে একজোট হয়ে অভিযানিক দলের ওপর হামলা চালায়। তারা ইটপাটকেল ও আগুনের গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে পাল্টা ধাওয়া দিয়ে একটি ট্রলার, প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মিটার জাল ও ৮০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এ সময় মেহেন্দিগঞ্জের চুমারচর গ্রামের জেলে মো. জুলহাস বেপারীকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে মূল মেঘনা নদীতে অভিযানে গিয়ে একইভাবে হামলার শিকার হন মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ সদস্যরা। ওইদিন জেলেদের ইট-পাথরের আঘাতে কয়েকজন আহত এবং মৎস্য বিভাগের স্পিডবোটের সামনের অংশের গ্লাস এবং হর্ন ভেঙে যায়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১১ রাউন্ড ব্ল্যাংক কার্টিজ গুলি ছোড়ে কোস্টগার্ড।
হিজলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেএম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘হিজলা এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাধীন ৮২ কিলোমিটার মেঘনা নদী মা ইলিশের অন্যতম প্রজননক্ষেত্র। এই সময় মেঘনা নদীতে ইলিশে ভরপুর থাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেঘনায় ইলিশ শিকারে যান অসাধু জেলেরা।
তিনি বলেন, ‘এবার শুরু থেকেই জেলেরা অনেকটাই আক্রমণাত্মক। জেলেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে যাচ্ছে। তাদের ট্রলারগুলোতে অনেক জেলে থাকে। তারা ট্রলারের মধ্যে আগুনের গোলা বানিয়ে দূর থেকে কোস্টগার্ড এবং আমাদের মৎস্য বিভাগের স্পিডবোটে নিক্ষেপ করছে।
তারা টেঁটা নিয়ে অভিযানকারীদের দিকে তাক করে থাকে। বৃষ্টির মতো ইট-পাথর ছোড়ে। তারা যে সংখ্যক জেলে থাকে সেখানে আমাদের অভিযানিক দলে জনবল কম। এমনকি স্পিডবোটও কম। মৎস্য বিভাগের একটি মাত্র স্পিডবোট। অথচ জেলেরা তিন-চারটা ইঞ্জিন লাগানো একাধিক বোট নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যায়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, মেঘনার মতো একটা নদীতে একটি স্পিডবোট নিয়ে অভিযান খুবই কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওপর জেলেরা যতটা মারমুখি তাতে অভিযানে গিয়ে আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। হিজলা উপজেলা মৎস্য বিভাগে আরও একটি স্পিডবোট এবং অভিযানের সময় নিয়মিত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলমান মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের গত চারদিনে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৪ জন জেলেকে আটক করেছে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ। এরমধ্যে রোববার চারজনকে আটক করে কোস্টগার্ড। তার আগে শুক্রবার ১৯ জন এবং শনিবার একজনকে আটক করা হয়। এ সময় দুটি মাছ ধরা ট্রলার, চার লাখ ২০ হাজার মিটার জাল এবং প্রায় ৮৫ কেজি মাছ জব্দ করা হয়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗