যুক্তরাজ্যের মোট আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশের বর্তমান রপ্তানি ০.৪৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে মাত্র ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি অনায়াসেই ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানো সম্ভব। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের (আরএমজি) বাইরে অপ্রচলিত খাতের পণ্যের বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, সনদায়ন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন
এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রবর্তিত ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর কার্যকর সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে ডিসিসিআই, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি : তৈরি পোশাক ব্যতীত অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪.৬৭ বিলিয়ন ডলার। তবে এর প্রায় ৯৪ শতাংশই ছিল তৈরি পোশাকনির্ভর। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক আমদানির আকার প্রায় ৯৪৮ বিলিয়ন ডলার হলেও বাংলাদেশ তার মাত্র ০.৪৯ শতাংশ জোগান দেয়।
তিনি বলেন, একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ওষুধ, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হিমায়িত চিংড়ি, বাই-সাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিক খাতের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর রপ্তানি বাড়াতে হবে। এ জন্য ভ্যালুচেইন উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের টেস্টিং সুবিধা এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা জরুরি।
স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ব্রিটেনের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে পণ্যের গুণগত মান, সরবরাহ শৃঙ্খলের অনুসরণযোগ্যতা, উন্নত প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং এবং কমপ্লায়েন্স পরিপালনে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানান তিনি।
ব্রিটিশ ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাজ্যের ‘ডিসিটিএস’ স্কিম বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও বাজার প্রবেশাধিকারের নিশ্চয়তা দেবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের আঞ্চলিক বাণিজ্য উপদেষ্টা এলি পার্কার ডিসিটিএস স্কিমের আওতায় অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা গ্রহণের ব্যবহারিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন কর্মশালায়।
নির্ধারিত প্যানেল আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারক সমিতির পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ আহমদ ফারহাদ, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ তানভীরসহ সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত নীতি সহায়তার ওপর জোর দেন।
