বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের টেকসই উন্নয়ন, শ্রমিকদের জীবনমান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা জোরদার করতে ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আজ নারী উন্নয়ন শক্তির আয়োজনে এবং টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, ইয়ং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট এবং ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সহযোগিতায় নারী উন্নয়ন শক্তির রামপুরাস্থ প্রশিক্ষণকক্ষে এক রাউন্ডটেবিল সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আবুল হোসাইন। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন ইয়ং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ ও প্রতিনিধি মিস জারিন তাসনিম, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক সেলিনা খাতুন, ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান মোহাম্মদ রাজ্জাক, নারী উন্নয়ন শক্তির প্রকল্প সমন্বয়কারী জনাব আব্দুল মোমিন এবং শ্রমিক প্রতিনিধি হাসনাত জাহানসহ অন্যান্য অংশীজন।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, উৎপাদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর সংলাপ জোরদার করার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে নিম্নোক্ত ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয় এবং সরকারকে উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান করা হয়:
১. শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ এবং নিয়মিত মজুরি পুনর্মূল্যায়ন।
২. নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।
৩. শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, সংগঠিত হওয়া ও যৌথ দর-কষাকষির অধিকার নিশ্চিত করা।
৪. কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য, হয়রানি, সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন বন্ধ করে কার্যকর প্রতিকারব্যবস্থা চালু করা ও শ্রমিকের মর্যাদা নিশ্চিত করা।
৫. ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, প্রসূতি সুবিধা, শিশুযত্নকেন্দ্র এবং নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
৬. নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, নিয়মিত বেতন, ওভারটাইমের ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং আইনসম্মত ছুটি নিশ্চিত করা।
৭. কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে দ্রুত ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৮. শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী কারখানার বিরুদ্ধে কার্যকর পরিদর্শন, জবাবদিহি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৯. শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সুযোগ বৃদ্ধি করা।
১০. সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের নিয়মিত ত্রিপক্ষীয় সংলাপের মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান এবং পোশাকশিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতা গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।
অংশগ্রহণকারীরা এসব দাবি বাস্তবায়ন এবং একটি ন্যায়সংগত, নিরাপদ ও টেকসই পোশাকশিল্প গড়ে তুলতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
The post পোশাকশিল্পে ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার নিশ্চিতে বৈঠক appeared first on Dhaka Protidin.
