মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চরম সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তহবিল ফুরিয়ে আসছে এবং দেশটি সামরিক সংকটের দিকে যাচ্ছে- এমনটাই দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। তবে তেহরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সম্প্রতি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান এবং ইরানের দক্ষিণ সমুদ্রবন্দরে নৌ-অবরোধের ফলে তেহরান মারাত্মক সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে, অবরোধের কারণে ইরানের অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলারের কাঁচা তেল রপ্তানি থমকে গেছে। তাদের প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর ফলে আইআরজিসি তাদের নিজস্ব সেনাসদস্য এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা তাদের মিত্র সামরিক গোষ্ঠীগুলোকে নিয়মিত বেতন ও অনুদান দিতে পারছে না।
এমনকি মার্কিন বাহিনীর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু আঞ্চলিক মিলিশিয়া গোষ্ঠী তাদের সৈন্যদের বেতন স্থগিত রেখে সেই অর্থ আইআরজিসির কেন্দ্রীয় তহবিলে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে ওয়াশিংটনের এমন ভাষ্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানি কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুলনাসের হেম্মাতি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন চাপ সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক খাত যথেষ্ট স্থিতিশীল রয়েছে। অর্থনীতি ধসে পড়া বা আইআরজিসি দেউলিয়া হওয়ার দাবি কেবলই একটি মার্কিন অলীক কল্পনা।
একই কথা ফুটে উঠেছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্যেও। তিনি স্বীকার করেন, সামুদ্রিক অবরোধের কারণে কিছু বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তবে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও শক্তি ব্যবহার করেই দেশ এগোচ্ছে। এমনকি জ্বালানি খাতের অপচয় কমিয়ে দেশটি এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাজেট সামাল দিচ্ছে।
ভূরাজনৈতিক গবেষকদের মতে, আইআরজিসির কুদস ফোর্স দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের শিয়া প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছে। লেবানন ও ইয়েমেনে সামরিক অর্থনীতির ওপর চাপ পড়লেও বিকল্প বিভিন্ন মাধ্যমে তেহরানের মিত্রদের কাছে রসদ পৌঁছে যাচ্ছে।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক নেগার মোর্ত্তাজারি মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া নীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আইআরজিসির ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করলেও তা ইরানের মূল সামরিক সিদ্ধান্ত কিংবা তাদের আঞ্চলিক কৌশল পরিবর্তন করতে পারবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের মুখেও আইআরজিসি ভেঙে পড়ার কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।
