পাঁচবারের কাউন্সিলর, দু’বার কলকাতা পুরসভার মেয়র, চারবারের বিধায়ক, দু’বারের মন্ত্রী, এলাকায় জনপ্রিয় নেতা। এমনকী ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে রাজ্যজুড়ে ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবিতেও নিজের এলাকায় জয় ছিনিয়ে এনে বিধায়ক হয়েছেন। এহেন ঝকঝকে রাজনৈতিক কেরিয়ার থেকে এবার ‘সন্ন্যাস’ নিতে চলেছেন ফিরহাদ হাকিম! আসন্ন পুরভোটে তিনি লড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। মেয়ের টিকিট পাওয়ার বিষয়টিও কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র। এছাড়া ঘনিষ্ঠ মহলে ববি এও জানিয়েছেন, যতদিন বিধায়ক হিসেবে তাঁর মেয়াদ, ততদিনই রাজনীতি করবেন। তারপর তিনি বা হাকিম পরিবারের কেউ আর রাজনীতির ‘পঙ্কিল আবর্তে’ থাকবেন না।
কলকাতা পুরসভার মেয়র হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের অবদান নেহাৎ কম নয়। একসময়ে আঠেরো মাসে বছর হওয়া পুরসভায় কাজের গতি ফিরিয়েছিলেন ববি। তাঁর তত্বাবধানে অনেক কাজই দ্রুত হয়েছিল। তবে বিতর্কও কম হয়নি। বিশেষত পুরসভার অন্দরে আর্থিক দুর্নীতি থেকে বেআইনি নিয়োগের মতো অভিযোগ এখনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের স্ক্যানারে। ফিরহাদ হাকিমকেও তদন্তের মুখে পড়তে হয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে কলকাতা বন্দর থেকে জিতে তিনি বিধায়ক হন ঠিকই, তবে বিজেপি সরকার গঠনের পর পুরসভার রাশ আলগা হয়ে গিয়েছিল তাঁর হাত থেকে। এই অবস্থায় চাপের মুখে জুন মাসে পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ফিরহাদ। পরবর্তীতে রাজনীতির গতিপথে বহু বাঁক-মোড় পেরিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দেন। আপাতত তিনি গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য।
দিন কয়েক আগে ঘনিষ্ঠ মহলে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, পুরভোটে কোনও দলেরই প্রার্থী হবেন না। এমনকী তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী, যিনি একসময়ে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের পদে ছিলেন, তিনিও লড়বেন না। ফিরহাদের বক্তব্য, ‘‘রাজনীতির পঙ্কিল আবর্তে আগামিদিনে থাকব না। আমি কলকাতা বন্দরের বিধায়ক। সেখানকার মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আছে। যতদিন আমার বিধায়ক পদের মেয়াদ আছে, ততদিন তাঁদের সেবক হয়ে কাজ করব। তারপর আর রাজনীতিতে আমি নেই।”
আগামী মাসেই কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট। কিন্তু তাতে লড়বেন না দু’বারের মেয়র। দিন কয়েক আগে ঘনিষ্ঠ মহলে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, পুরভোটে কোনও দলেরই প্রার্থী হবেন না। এমনকী তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী, যিনি একসময়ে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের পদে ছিলেন, তিনিও লড়বেন না। ফিরহাদের বক্তব্য, ‘‘রাজনীতির পঙ্কিল আবর্তে আগামিদিনে থাকব না। আমি কলকাতা বন্দরের বিধায়ক। সেখানকার মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আছে। যতদিন আমার বিধায়ক পদের মেয়াদ আছে, ততদিন তাঁদের সেবক হয়ে কাজ করব। তারপর আর রাজনীতিতে আমি নেই।” এতেই স্পষ্ট, ২০৩১ সালের পর আর ফিরহাদকে বঙ্গ রাজনীতিতে পাওয়া যাবে না। ঘনিষ্ঠ বৃত্তে তিনি নাকি এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন যে নানা কারণে বিভিন্ন মহলের টার্গেট হাকিম পরিবার। তাই রাজনীতির ইঁদুরদৌড়ে আর থাকবেন না তিনি ও পরিবারের কেউ।
এতদিন ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার চেতলার ৮২ নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদের জন্য লড়েছেন ফিরহাদ। এবার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ফলে ওই ওয়ার্ড দুটি ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তার একটি মহিলা সংরক্ষিত। আর সেখানেই চর্চা চলছিল, প্রাক্তন মেয়রের কন্যাকে হয়ত প্রার্থী করা হতে পারে। কিন্তু তাতেও কার্যত জল ঢেলে দিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র। স্পষ্ট করেই নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা জানিয়েছেন।
