চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুর্দশা যেন কাটছেই না। বুধবার ইতালির ক্লাব কোমোর কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। দলের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সে আরও চাপে পড়েছেন কোচ মাইকেল ক্যারিক। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচে জয়হীন রইল ইউনাইটেড।
কোমোর ঐতিহাসিক জয়ে জোড়া গোল করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা নিকো পাজ। এ ছাড়া তাসোস দুভিকাস ও হাকোবো রামন একটি করে গোল করেন। ইউনাইটেডের হয়ে শেষ দিকে একমাত্র গোলটি করেন জশুয়া জির্কজি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জির্কজির গোলটি না হলে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের সমান ব্যবধানে হারতে হতো ইউনাইটেডকে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় টানা ব্যর্থতার পাশাপাশি ঘরোয়া লিগেও বাজে সময় পার করছে দলটি।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিনটি ড্র ও তিনটি পরাজয়ের পর ক্যারিকের ওপর চাপ বাড়ছিল। এর মধ্যেই লিগের মৌসুমে গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে শুরুর রেকর্ড গড়ে ইউনাইটেড। তবে ইতালির উত্তরের শহরে বৃষ্টি ও বাতাসের মধ্যে খেলতে নেমে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো লক্ষণই দেখাতে পারেনি দলটি।
অন্যদিকে, গত তিন বছরে ইতালির দ্বিতীয় বিভাগ থেকে ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেওয়া কোমোর উত্থান রূপকথার মতো। তিনবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ইউনাইটেডকে এভাবে বিধ্বস্ত করা ক্লাবটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা জয় হয়ে থাকবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেস ফাব্রেগাসের কোমো। দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন পাজ। বক্সের সামনে বল পেয়ে নিজের পছন্দের বাঁ পায়ে নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। এরপর নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন তারকা।
ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের পুরোনো দুর্বলতাই আবার সামনে আসে। গত সপ্তাহে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হারের ম্যাচেও শুরুতেই গোল হজম করেছিল দলটি। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে মাত্র একবার প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি তারা।
গোল পাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে কোমো। বল দখলে রেখে ইউনাইটেডকে চাপে ফেলে স্বাগতিকেরা। প্রথমার্ধে লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি ক্যারিকের দল। অন্যদিকে, দুভিকাস ও মার্টিন বাতুরিনার মাধ্যমে আরও গোলের সুযোগ তৈরি করে কোমো।
বিরতির সময়ই দলের খেলায় গতি ফেরাতে জোড়া পরিবর্তন আনেন ক্যারিক। আন্দ্রে সান্তোস ও মাতেউস কুনিয়ার বদলে মাঠে নামেন আমাদ দিয়ালো ও কার্লোস বালেবা। কিন্তু বিরতির পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের তিন মিনিটের মাথায় পাজের বাড়ানো বল ধরে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন গ্রিসের ফরোয়ার্ড দুভিকাস। ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।
এরপর কোমোর অধিনায়ক লুকাস দা কুনহা সহজ সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি। তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে তৃতীয় গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের।
৫৭ মিনিটে মাঝমাঠে বালেবার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন পাজ। এরপর দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি। নিজের দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি ইউনাইটেডের বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে দেন এই আর্জেন্টাইন।
হতবিহ্বল ইউনাইটেডের রক্ষণভাগকে প্রায় চতুর্থবারের মতো ভাঙেন পাজ। হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে নেওয়া তার বাঁকানো শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক সেন্নে ল্যামেন্স।
তবে ১৪ মিনিট বাকি থাকতে চতুর্থ গোল পেয়ে যায় কোমো। সতীর্থের ক্রস থেকে অরক্ষিত অবস্থায় হেড করে জাল খুঁজে নেন ডিফেন্ডার রামন।
এরপরই হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে শুরু করেন সফরকারী সমর্থকেরা। ফলে যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় জির্কজির করা গোলটিও অনেকের দেখা হয়নি।
শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোমো। ইউরোপীয় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার লিগ পর্বে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে তাদের পয়েন্ট দাঁড়ায় ছয়ে। অন্যদিকে, মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়ে আরও গভীর সংকটে পড়ল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
