যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান বহর ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানের’ জন্য কাতারের কাছে একটি বোয়িং বিমান ধার চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ অক্টোবর) অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় তিনি এ কথা জানান। খবর আনাদোলুর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি শুরুতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির কাছে সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান ধার চেয়েছিলেন। তবে কাতারের আমির বিমানটি ধার দেওয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ যখন আপনাকে উপহার দেয়, তখন তা গ্রহণ করাই তো স্বাভাবিক, তাই না? কেউ যখন আপনাকে একটি ৭৪৭ বিমান উপহার দেয়, তখন কেবল দুটি শব্দই বলা যায়, ‘আপনাকে ধন্যবাদ।’
ট্রাম্প জানান, তিনি শেখ তামিমের কাছে এই অনুরোধ করেছিলেন, কারণ বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ব্যবহারের জন্য যে বিমানগুলো রয়েছে, সেগুলো বেশ পুরোনো হয়ে গেছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি ধার নিতে চেয়েছিলাম। কারণ আমাদের বিমানগুলোর বয়স ৩৫ বছর।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কাতারের রাষ্ট্রপ্রধানকে ফোন করলাম—তিনি অত্যন্ত সম্মানিত একজন ব্যক্তি, দারুণ মানুষ, তরুণ, সুদর্শন... এবং তার প্রচুর টাকা আছে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, তামিম, যদি সম্ভব হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে আমি কি আপনার ৭৪৭ বিমানটি কিছু দিনের জন্য ধার নিতে পারি? আমাদের নতুন বিমান না আসা পর্যন্ত এটি এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করা যেত।’
ট্রাম্পের ভাষ্য, কাতারের আমির বিমানটি ধার দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং এর পরিবর্তে সেটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
ট্রাম্প ঘটনাটি বর্ণনা করে বলেন, ‘তিনি বললেন, না, না, না, না, না, না! আপনি আমার বন্ধু। আমি আপনাকে এটি ধার নিতে দেব না। বরং আমি চাই, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আপনি এটি গ্রহণ করুন। এটি আপনারই থাকল।’
ট্রাম্প জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই বিমানটি গ্রহণ করেছেন।
মার্কিন বিমান বাহিনী কাতারের এই বিমানটির নাম দিয়েছে ‘ভিসি-২৫বি’। নতুন দুটি বোয়িং ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্টের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। এর আগ পর্যন্ত কাতারের দেওয়া বিমানটি ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র।