সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে আবার রিয়াদের ফ্লাইট চলাচল শুরু করা হবে: বিমানমন্ত্রী
জাতীয় ডেস্ক: সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও অনুমতি পাওয়া মাত্রই রিয়াদ রুটে পুনরায় বিমান চলাচল শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে এই রুটে ফ্লাইট স্থগিত থাকলেও যাত্রীদের দীর্ঘমেডিয়াদী ভোগান্তি এড়াতে দাম্মাম ও মদিনা রুটে বিকল্প উপায়ে যাত্রী স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তিনি বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী যাত্রীদের লাগেজ পাওয়ার অভিজ্ঞতা সরাসরি শোনেন এবং নতুন চালু হওয়া লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেন। যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লাগেজ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এই সেবার মান আরও উন্নত ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে, যাতে প্রবাসীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
এর আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের প্রধান তিনটি বিমানবন্দরে মোট ২০০টি নতুন ট্রলি হস্তান্তর করেন। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে সরবরাহ করা এই ট্রলিগুলোর মধ্যে রাজধানীতে ১৫০টি এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে ২৫টি করে প্রদান করা হয়েছে। মূলত প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের দুর্ভোগ কমাতে এবং বিমানবন্দরে তাঁদের যাতায়াত সহজ করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। তিনি জানান, আকাশপথের যোগাযোগ স্বাভাবিক এবং সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে ওমরাহ যাত্রী ও অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে যাওয়া ওই দুই প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদিতে আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রীদেরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাপেক্ষে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যার মাধ্যমে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের আইনি সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা নিশ্চিত হবে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি নাগরিকদের সমপরিমাণ আইনি অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন ও উচ্চ বেতনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে নারী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় মাতৃত্বকালীন নিরাপত্তা ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
