ঢাকা: শারদীয় দুর্গোৎসবের ঢাক আর কাঁসরের বাজনায় এখন মুখরিত চারপাশ। আবহমান বাংলার ঘরে ঘরে মহামায়ার আগমন ঘটেছে শুভক্ষণে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া শারদোৎসবের দিনগুলোতে এখন বিরাজ করছে এক পরম আনন্দে ঘেরা পবিত্রতা। এবার তিথির গণনায় পড়েছে এক বিশেষ সমাপাত। পর পর দুই দিন ধরে উদযাপিত হচ্ছে সপ্তমী পূজা। রোববার (১৮ অক্টোবর) ছিল সেই জোড়া সপ্তমীর দ্বিতীয় দিন, যা পূজার আনন্দে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা ও উৎসবের আমেজ।
শারদীয় উৎসবের আসল রূপ ফুটে ওঠে ঠিক সন্ধ্যায়, যখন সন্ধ্যারতি ও আরতির মুহূর্তে মন্দিরে মন্দিরে নেমে আসে এক দৈব আবহ। আজ দ্বিতীয় সপ্তমীর সন্ধ্যায় পূজা মণ্ডপে দেখা গেল ভক্তদের বিপুল সমাগম। সন্ধ্যায় যখন ধূপের সুবাস, পঞ্চপ্রদীপের শিখা আর কাঁসর-ঘণ্টার শব্দ এক সঙ্গে মিশে যায়, তখন পুরো পরিবেশ রূপ নেয় এক অপূর্ব দৃশ্যপটে। ঢাকের তালের সঙ্গে প্রতিমার সামনে চলে প্রদীপ ও আরতির নৃত্য, যা মন্দির চত্বরকে নিমেষেই এক অন্য জগতে নিয়ে যায়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাসপ্তমী দেবী দুর্গার শক্তি, কল্যাণ ও অশুভ শক্তি বিনাশের আরাধনার বিশেষ দিন। এ দিনে ভক্তরা দেবীর কাছে পরিবার, সমাজ ও দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। পূজা-অর্চনা, মন্ত্রপাঠ ও ভোগ নিবেদনের মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ।
মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান আচার নবপত্রিকা স্নান ও পূজামণ্ডপে এর প্রবেশ। নবপত্রিকা সাধারণভাবে ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী কলাগাছ, কচুগাছ, হলুদগাছ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ এই নয়টি উদ্ভিদ একত্র করে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়।
নির্ধারিত আচার অনুসারে নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে পূজামণ্ডপে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর শুরু হয় সপ্তমীবিহিত পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ষোড়শোপচারসহ বিভিন্ন শাস্ত্রীয় রীতিতে দেবীর পূজা করা হয়। মন্ত্রপাঠ, পুষ্পার্ঘ্য ও ভোগ নিবেদনের পাশাপাশি চলে আরতি।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভূজা দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যলোকে আসেন। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পিতৃগৃহে সময় কাটানোর পর আবার দেবালয়ে ফিরে যান। দেবীর এই আগমনকে ঘিরেই শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও ধর্মীয় তাৎপর্য।
পর পর দুই দিন সপ্তমী উদযাপনের বিরল সুযোগে ভক্তরা যেমন ধীরস্থিরে দেবীর আরাধনা করার সময় পেয়েছেন, তেমনি আনন্দকে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও হয়েছে দ্বিগুণ। আজ রাতে সপ্তমীর সন্ধ্যারতি শেষ হলেও এই আনন্দের ধারা থামছে না। কাল সূর্য উঠলেই সূচনা হবে মহাঅষ্টমীর, যা পূজার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজার রাত নিয়ে আসবে নতুন এক উচ্ছ্বাস।
