নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের আলোচনা সামনে আসার পরও জাতীয় নির্বাচনের পথনকশার (রোডম্যাপ) দাবিতে অনড় বিএনপি। বিএনপির ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, তাদের চাওয়া প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস থাকুক, কিন্তু ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা করুক।
আবার অন্তর্বর্তী সরকারের জন্যও এই মুহূর্তে বিএনপির সমর্থন অনেক জরুরি। শুধু নির্বাচনই নয়, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সফলভাবে সরকারের দায়িত্ব শেষ করতে এটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকার-ঘনিষ্ঠদের চাওয়া, সমর্থনের ঘোষণাটা বিএনপির দিক থেকে আসুক।
যদিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল শুক্রবার বলেছেন, একান্তই যদি তিনি (ড. ইউনূস) দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তাহলে রাষ্ট্র তো বসে থাকবে না। রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে বিকল্প ব্যবস্থা নেবে। পৃথিবীতে কেউ অপরিহার্য নয়।
অবশ্য প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য থাকলেও আজ শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলতে তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনায় যাবেন বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে সন্ধ্যায় সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা। যমুনা এবং রাজনৈতিক সূত্র সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), হেফাজতে ইসলামের মতো দলগুলোর সমর্থন আগের মতোই পাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরা সংস্কারের পর নির্বাচনের কথা বলছে।
বিএনপির সূত্র জানায়, তারা গতকাল মিত্র দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে। এই দলগুলো আগে থেকেই নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে একমত। প্রধান উপদেষ্টার বিষয়েও এখন তারা বিএনপির মতকে সমর্থন করছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো নেতা ফেসবুকে এ বিষয়ে মত প্রকাশও করেছেন। বামপন্থি দলগুলো নির্বাচনের রোডম্যাপ চাচ্ছে।
ড. ইউনূসের পদত্যাগের আলোচনার পর রাজনৈতিক দলগুলোর নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিভিন্ন দল পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একাধিক দল নিজেদের মধ্যে বৈঠকও করেছে। উত্তেজনা প্রশমনেও কেউ কেউ কাজ করছেন বলে সূত্র জানায়।
ব্যাংককে চিকিৎসাধীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট দূরের একমাত্র পথ দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা। অন্য কথা বলে লাভ নেই। বিচার ও সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া।
এনসিপির পর জামায়াতও নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, অনেক ত্রুটি থাকলেও জাতীয় স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর বিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন ও সংস্কারের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করলে সবার সন্দেহ-সংশয় কেটে যাবে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গতকাল ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানান, ড. ইউনূসকে সংস্কার, বিচার ও ভোটাধিকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। তাঁকে দায়িত্বে থেকেই রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র, সংস্কার ও নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচনের আগে বিচারের রোডম্যাপ আসতে হবে।
সরকারকে সমর্থন জানিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন চরমোনাই পীর তথা ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়ার বিষয় আছে, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলে দাবি-দাওয়া আদায়ের রাজনীতি ও পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে।
