কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া স্বর্ণালংকার, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রার শ্রেণিবিন্যাস, ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কার্যক্রমে দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণালংকার, রূপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পৃথকভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হচ্ছে। পরে এসব সামগ্রীর ওজন ও পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। মূল্যবান এসব সামগ্রীর সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, গত ২৭ জুন দীর্ঘ ছয় মাস পর পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন দানবাক্সগুলো থেকে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গণনার জন্য প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ৫৯০ সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। নগদ অর্থ গণনার পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, রূপা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও পৃথক করা হয়।
নগদ অর্থ গণনা শেষ হলেও স্বর্ণালংকার, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য পৃথকভাবে শ্রেণিবিন্যাস, ওজন পরিমাপ ও গণনার প্রয়োজন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার এসব মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। গণনা শেষে এগুলোর মোট পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ দান-অনুদান পাওয়ার কারণে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ এ মসজিদে আসেন। তাঁদের অনেকে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, রূপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা দান করেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানত পূরণের প্রত্যাশায় নানা বয়সী মানুষ এ মসজিদে দান করেন। রোগমুক্তি, সন্তান লাভ, উচ্চশিক্ষা ও পারিবারিক কল্যাণসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে অনেকে মানত করেন। স্থানীয় জনশ্রুতি ও মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে মসজিদটিতে দীর্ঘদিন ধরে দান-অনুদানের প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খোলা হলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়। এ কারণে পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলার খবর দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। এবার দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণালংকার, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রার শ্রেণিবিন্যাস, ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এসব দানের পরিমাণ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
