টানাপোড়েন, দলবদল নিয়ে অনিশ্চয়তা আর সমর্থকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া—আতলেতিকো মাদ্রিদের জার্সিতে হুলিয়ান আলভারেসের সাম্প্রতিক সময়টা ছিল বেশ কঠিন। তবে ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে শুরু করেছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ দিয়েগো সিমিওনে মনে করছেন, সেরা ফর্মের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন এই তারকা।
মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ম্যাচটিতে ৭১ মিনিট খেলেন আলভারেস। তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সময় গ্যালারিতে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একাংশের সমর্থক হাততালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান, অন্যদিকে কেউ কেউ দুয়োও দেন। দলবদল নিয়ে তার আগের অবস্থানের কথা এখনো ভুলতে পারেননি আতলেতিকোর কিছু সমর্থক।
চলতি মৌসুম শুরুর আগে থেকেই আলভারেসকে ঘিরে উত্তপ্ত ছিল দলবদলের বাজার। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সি এই আর্জেন্টাইন। তবে তাকে ছাড়তে রাজি ছিল না আতলেতিকো কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে কোচ সিমিওনে তাকে ধরে রাখার ব্যাপারে ছিলেন অনড়। শেষ পর্যন্ত মাদ্রিদেই থেকে যেতে হয় আলভারেসকে।
এই ঘটনা ঘিরে ক্লাবের কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। পাশাপাশি সমর্থকদের একটি অংশের কাছেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন তিনি। মাঠের পারফরম্যান্সেও এর প্রভাব পড়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে শুরু করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে আলভারেসকে ঘিরে সমর্থকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়াকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন সিমিওনে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়ের উন্নতিতে নিজের সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন আতলেতিকো কোচ।
সিমিওনে বলেন, ‘খেলোয়াড়রা যা করে, সমর্থকেরাও সেভাবেই সাড়া দেয়। তারা খেলোয়াড়দের সেরাটা দেখতে চায় এবং হুলিয়ান এখন সেটাই দিচ্ছে। আজ তার গোল করার সুযোগ ছিল। আমরা তাকে যেভাবে দেখতে চাই, সেটির আরও কাছাকাছি চলে আসছে সে। তাকে আমাদের প্রয়োজন।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই পাবলো বারিওসের গোলে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। এরপর দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে অপেক্ষা করতে হয় শেষ ভাগ পর্যন্ত। ম্যাচের শেষ দিকে আদেমোলা লুকমানের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
দল আরও বেশি ব্যবধানে জিততে পারত বলে মনে করেন সিমিওনে। তবে সার্বিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা যে কার্যকর হয়েছে, সেটিও তুলে ধরেছেন আতলেতিকো কোচ।
ম্যাচের মূল্যায়নে সিমিওনে বলেন, ‘প্রথম গোল করে খেলার শুরুতেই এগিয়ে যেতে পেরে আমরা ভাগ্যবান ছিলাম। চমৎকার আক্রমণ ছিল। আমরা জানতাম যে, তারা ওপরে উঠে চাপ সৃষ্টি করবে। এই কাজটা তারা ভালোভাবেই করে। কিন্তু এটাও জানতাম যে, যদি তাদের প্রথম চাপটি কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে আমরা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে পারব। জানতাম যে, উইং দিয়ে আমরা তাদের ভোগাতে পারব। স্কোরবোর্ডে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আমাদের ছিল। প্রথমার্ধে তাদের একটি বিপজ্জনক সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা আরও ভালো খেলেছি, আমাদের সুযোগ বেশি ছিল। দল সবসময় আরও ভালো করার চেষ্টা করছিল।’
আলভারেসের প্রতি সমর্থকদের মনোভাব পুরোপুরি বদলেছে, এমনটা বলার সুযোগ এখনো নেই। তবে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন তিনি। সিমিওনের আস্থাও যে ধীরে ধীরে ফিরে আসছে, তা কোচের বক্তব্যেই স্পষ্ট। এখন ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সমর্থকদের মন জয় করাই হবে আর্জেন্টাইন তারকার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।