প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে আসছেন তারেক রহমান। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ সফরে তিনি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজশাহীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবার সফরকে ঘিরে রাজশাহীতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। সফরকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল প্রস্তুত, নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্ণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি সভা করেছেন। ইতোমধ্যে জনসভাস্থল ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান পরিদর্শন করেছেন ভূমিমন্ত্রী, রাসিক প্রসাশক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তার এ সফরের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়ন কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছেন তারা। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করবেন। পরে বিকেলে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঐতিহাসিক মাদ্রাসা পাঠ পরিদর্শন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপালিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মুখপাত্র) গাজীউর রহমান বলেন, রাজশাহী মেট্রোপালিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যেখানে ল্যান্ড করবেন, সেখান থেকে শুরু যে দুইটি স্থান পরিদর্শন করবেন, এই স্থানসহ পুরো রুটটাতে আমাদের যে ধরনের নিরাপত্ত ব্যবস্থা দরকার, এই বিষয়গুলো আমরা পরিদর্শন করেছি।
তিনি বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছি। এগুলো সমন্বয় করে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও জনসভা নিরাপদ, সুষ্ঠ ও সুন্দর হয় এই বিষয়গুলো সামনে রেখে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
এর আগে গতকাল রোববার মাদ্রাসা ময়দান পরিদর্শন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।
তিনি বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের সরকার। প্রধানমন্ত্রী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান চত্বর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ, কুমারপাড়া গুলগফুর পেট্রোল পাম্প থেকে বড়কুঠি হয়ে বরেন্দ্র জাদুঘর এবং ফায়ার ব্রিগেড মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ। এ ছাড়া নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠের উন্নয়ন, ফুটসাল গ্রাউন্ড ও সিনিয়র সিটিজেন পার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে।
রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে রাজশাহীতে স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবারও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগরীর উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা হেতেমখাঁ-বর্ণালী সড়কের উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও কাজ চলমান রয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহী মহানগরীকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
