আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ইগুয়াজু জলপ্রপাতের পর্যটন এলাকায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এদিকে এল নিনো ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে ২০২৬ সালও বিশ্বের উষ্ণতম বছরগুলোর একটি হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর সোমবার ইগুয়াজু নদীর পানিপ্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আর্জেন্টিনার ইগুয়াজু জাতীয় উদ্যানের পর্যটন এলাকায় প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নদীতে পানির প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ১২ হাজার ঘনমিটারের বেশি হয়ে যায়, যা স্বাভাবিক প্রবাহের ছয় গুণেরও বেশি।
ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদীর পানি বাড়তে থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে পানিপ্রবাহ কমতে শুরু করলে মঙ্গলবার থেকে আর্জেন্টিনার দিকের পর্যটন কার্যক্রম সীমিত পরিসরে আবার চালু করা হয়। তবে জলপ্রপাতের অন্যতম আকর্ষণ ‘ডেভিলস থ্রোট’ অংশে প্রবেশ বন্ধ ছিল।
দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সীমান্তে অবস্থিত ইগুয়াজু জলপ্রপাত বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত প্রাকৃতিক বিস্ময়। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত এ জলপ্রপাত এলাকায় এল নিনোর প্রভাবে অতীতে বন্যা ও পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির কারণে পর্যটন কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ছিল রেকর্ডে দ্বিতীয় উষ্ণতম সেপ্টেম্বর। ওই মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক্-শিল্পযুগের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। একই সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান এল নিনো পরিস্থিতি বছরের শেষ দিকে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ২০২৬ সালই ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: গার্ডিয়ান
