ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে বন্দুকধারীর গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত চারজন। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত করছে পুলিশ।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, শুক্রবার প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ত্রাপ শহরে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশটির জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটরের দপ্তর (পিএনএটি) জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব তারা নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ত্রাপের মেয়র আলি রাবেহ জানান, শুক্রবার সকালে এক ব্যক্তি গাড়ি থেকে তার সামনে পড়া কয়েকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। বিএফএমটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি কয়েকটি এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ান এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালান। তার উদ্দেশ্য ছিল যত বেশি সম্ভব মানুষকে হতাহত করা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেয়র বলেন, তিনি ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালাতে চেয়েছিলেন। গুলিবর্ষণের সময় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, একটি পেট্রলপাম্প ও বেশ কয়েকটি যানবাহনও হামলার শিকার হয়।
ওই ব্যক্তি একটি প্রধান সড়ক ধরে গাড়ি চালানোর সময় জানালা দিয়ে থেমে থেমে গুলি ছুড়ছিলেন উল্লেখ করে স্থানীয় পুলিশের এক কর্মকর্তা বিএফএমটিভিকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি বিরতি দিয়ে গুলি ছোড়া যায়—এমন ধরনের আধা-স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে প্যারিজিয়াঁর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ব্যবহৃত অস্ত্রটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনার পর কাছের কোয়েনিয়ের শহর থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার বয়স ৩৯ বছর। তিনি পুলিশের কাছে পরিচিত হলেও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারিতে ছিলেন না। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী একটি শিশুও থাকতে পারে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ত্রাপের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে বলেন, ঘটনাটি ‘নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের’ মতো মনে হচ্ছে। তবে হামলাকারীর উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
পিএনএটি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি নিষিদ্ধ বা সামরিক মানের অস্ত্রসহ ‘ক্যাটাগরি এ’ শ্রেণীর আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এ ধরনের অস্ত্রের মধ্যে সামরিক কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং একাধিক গুলি পরপর ছুড়তে সক্ষম অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। হতাহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পুরো জাতি তাদের পাশে রয়েছে।
