আজ ভোরে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর থেকেই নিহতদের পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া
জীবিকার তাগিদে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তারা। উদ্দেশ্য ছিল রাজশাহীর তাহেরপুরে গিয়ে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনবেন। সেই পণ্য নিয়ে আবার ফিরে আসার কথা ছিল নিজ এলাকায়। ব্যবসা চলবে, সংসারের চাকা ঘুরবে—এমন স্বাভাবিক প্রত্যাশা নিয়েই শুরু হয়েছিল তাদের যাত্রা। কিন্তু পথেই থেমে গেল সব স্বপ্ন। নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪ জনের মধ্যে প্রাণ হারান শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী।
আজ ভোরে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর থেকেই নিহতদের পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।
শরীয়তপুরের নিহত পাঁচজন হলেন জাজিরার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, মোল্লাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে সালাল মোল্লা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচজনই দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার কাজিরহাটসহ আশপাশের এলাকায় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেউ ভুষিমালের ব্যবসা করতেন, কেউ হলুদের ব্যবসা, আবার জুয়েল মাদবর ভুষিমালের পাশাপাশি রড-সিমেন্টের ব্যবসাও করতেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য কিনে এনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করাই ছিল তাদের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন। সেই ব্যবসার কাজেই এবার রাজশাহীর তাহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তারা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনা কেড়ে নিল পাঁচটি প্রাণ।
একই এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হওয়ায় পাঁচজনের মধ্যে পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। তাদের মৃত্যুতে শোকাহত স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল। কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার জানান, ব্যবসার সুবাদে পাঁচজনের সঙ্গেই তার পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। তাদের মৃত্যুর খবর অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
আজ ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া এলাকার সরকারপাড়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২৭ জন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
