Published on
:
3 min read
এই সময়: ট্যাক্স ডিডাক্টেড অ্যাট সোর্স তথা টিডিএস নিয়ে আমজনতার ঝক্কি আরও কমাতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত বছরে ‘ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ এর খসড়া নিয়ে আসার সময়েই এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সংবাদসংস্থার রিপোর্টে দাবি, গত ১ অক্টোবর সেই আইনকে আরও সহজ করতে ‘ফর্ম ১৪১’-এ আরও একটি শিডিউল যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। যেখানে অনাবাসী ভারতীয় বিক্রেতার কাছ থেকে কোনও ব্যক্তি অথবা হিন্দু আনডিভাইডেড ফ্যামিলি (এইচইউএফ) সম্পত্তি কিনলে, সেই ক্ষেত্রে ‘শিডিউল ই’ ব্যবহার করে টিডিএস জমা দিতে হবে।
পাশাপাশি, যিনি সম্পত্তি কিনছেন, তাঁর ক্ষেত্রে লেনদেনের সময়ে ‘ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যান্ড কালেকশন অ্যাকাউন্ট নম্বর’ (ট্যান) এর-ও প্রয়োজন পড়বে না। যা ক্রেতাদের নথির ঝামেলা আরও কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ‘ফর্ম ১৪১’ কী, তা ব্যবহার কী ভাবে করবেন, আসুন জেনে নেওয়া যাক।ফর্ম ১৪১ কী?
নয়া আয়কর আইনে প্রথমবারের জন্য এই ফর্ম নিয়ে আসা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগে টিডিএস জমার ক্ষেত্রে যিনি ‘ডিডাক্টি’-কে টাকা দিচ্ছেন, তাঁকে ২৬কিউবি, ২৬কিউসি, ২৬কিউডি এবং ২৬কিউই—এই চারটি ফর্ম ব্যবহার করে কাজ সারতে হতো। এ বার থেকে তার বদলে ফর্ম ১৪১ ব্যবহার করেই তা মেটানো যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে ফর্ম-এ মোট পাঁচটি শিডিউল তৈরি করা হয়েছে। যেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘ডিডাক্টর’ উপযুক্ত বিভাগটি বেছে টিডিএস জমা করবেন। উল্লেখ্য, কোনও সম্পত্তি কেনাবেচা হোক অথবা ভাড়ার বিষয় থাকুক, যিনি টাকা দিচ্ছেন তিনিই টিডিএস জমার ক্ষেত্রে ‘ডিডাক্টর’-এর ভূমিকা পালন করেন। অন্য দিকে, যিনি ওই লেনদেন থেকে টাকা পাচ্ছেন অথবা যাঁর টাকা কাটা হচ্ছে, তাঁকে ‘ডিডাক্টি’ বলা হয়।
কোন কোন লেনদেনের ক্ষেত্রে ফর্ম ১৪১-এর প্রয়োজন?
স্থাবর অথবা অস্থাবর সম্পত্তি কেনা, ভার্চুয়াল ডিজিটাল সম্পদের হস্তান্তর-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানেই আপনাকে সরাসরি টিডিএস জমা করতে হবে, সেই ক্ষেত্রেই প্রয়োজন পড়বে ফর্ম ১৪১-এর। বর্তমানে বিভিন্ন লেনদেনকে আলাদা ভাবে দেখার জন্যে এই ফর্ম-এ পাঁচটি শিডিউল রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে,
শিডিউল এ: বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি টিডিএস জমার প্রয়োজন হয়, সেই ক্ষেত্রে এই শিডিউল ব্যবহার করতে হবে। আইন অনুযায়ী, বর্তমানে যদি মাসিক ভাড়ার অঙ্ক ৫০ হাজার টাকা অথবা তার বেশি হয়, সেই ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া দেওয়ার সময়ে ভাড়াটেকে টিডিএস কেটে এই শিডিউল-এ তা জমা দিতে হবে।
শিডিউল বি: কোনও স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে লেনদেনের অঙ্ক যদি ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি হয়, সেই ক্ষেত্রে ক্রেতাকে প্রয়োজনীয় টিডিএস কেটে এই শিডিউল-এ জমা দিতে হবে।
শিডিউল সি: রেসিডেন্ট কন্ট্র্যাক্টর অথবা প্রফেশনালদের কোনও টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক যদি ৫০ লক্ষ টাকা ছাড়ায়, তা হলে টিডিএস কেটে এই শিডিউল-এ জমা দিতে হবে।
শিডিউল ডি: ভার্চুয়াল ডিজিটাল অ্যাসেট তথা ভিডিএ হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও যিনি সরাসরি টাকা দিচ্ছেন, অথবা তা ট্রান্সফার করছেন, তাঁকে এই শিডিউল-এ টিডিএস জমা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে অবশ্য টাকা ট্রান্সফার-এর কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই।
শিডিউল ই: কোনও অনাবাসী ভারতীয় যদি কোনও ভারতীয় অথবা এইচইউএফ-কে সম্পত্তি বিক্রি করেন, সেই ক্ষেত্রে ক্রেতা এই শিডিউল ব্যবহার করে টিডিএস জমা করবেন।
কী ভাবে ফর্ম ১৪১ জমা দেবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের প্যান ব্যবহার করে আয়কর বিভাগের ই-ফাইলিং পোর্টাল-এ লগইন করতে হবে। ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর মধ্যে এই ফর্ম পাওয়া যাবে। এর পর নিজের প্রয়োজন মতো তা জমা করতে হবে। তবে মনে রাখবেন, যে মাসে আপনি টিডিএস কেটেছেন, সেই মাস শেষ হওয়ার পর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ‘চালান-কাম-স্টেটমেন্ট’ জমা দিতে হবে। এ ছাড়া কেটে নেওয়া টাকাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা করতে হবে।
একটি ফর্ম ব্যবহার করে কি একাধিক লেনদেন জমা দিতে পারবেন?
কর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যদি একটি মাসেই টিডিএস কাটা হয় এবং একই ধরনের একাধিক লেনদেন হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে একটি ফর্ম ব্যবহার করা যাবে। তবে প্রতিটি ফাইলিং-এর ক্ষেত্রে একটি শিডিউল ব্যবহার করতে পারবেন।
