The Sangbad · সাধারণ
বন উজাড়ে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতি, ঘটছে ব্যাপক প্রাণহানি
১৫/১০/২০২৬

শ্রীলঙ্কায় বনাঞ্চল ক্রমেই সংকুচিত হওয়া ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের মুখে পড়ে মানুষ এবং বুনো হাতির সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গালগামুওয়া এলাকায় খাবারের সন্ধানে বুনো হাতির দল প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যার ফলে প্রতি বছর ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে।রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বে মানুষ ও হাতির প্রাণঘাতী সংঘাতের দিক থেকে বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর হাতির আক্রমণে দেশটিতে গড়ে ১৩৮ জন মানুষ মারা গেছেন। অন্যদিকে, লোকালয়ে ঢুকে পড়া হাতির ওপর হামলা, বিষপ্রয়োগ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা বা ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে প্রতি বছর গড়ে ৪০২টি হাতির করুণ মৃত্যু হচ্ছে। এমনকি ২০২৩ সালে রেকর্ড ৪৮৮টি হাতি প্রাণ হারিয়েছে।বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ১৯২০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বনাঞ্চলে ঢাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে মাত্র ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে বসবাসকারী প্রায় ৭,৪৫১টি বন্য হাতির অন্তত ৭০ শতাংশই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে জীবনধারণ করছে। বিশেষ করে গত দুই দশকে গালগামুওয়ার সিয়ামবালাঙ্গামুওয়া জলাধারের চারপাশের জঙ্গল কেটে ফেলার কারণে হাতির দল প্রতিদিন লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।লোকালয়ে হাতির অবাধ আনাগোনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেছেন। সকালে হাতির আক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান আধা ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। যেকোনো পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান সন্ধ্যার আগেই শেষ করা হয়। এমনকি হাতির চলাচলের রিয়েল-টাইম তথ্য পেতে বাসিন্দারা বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করছেন এবং সবাই মিলে পটকা ফুটিয়ে হাতি তাড়ানোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন।বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীদের মতে, কেবল বনাঞ্চল উজাড় বন্ধ করা, ব্যাপক পুনঃবনায়ন এবং হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই এই প্রাণঘাতী সংকট নিরসন করা সম্ভব।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗