জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদে ১৫টি আসনের জন্য সমসংখ্যক প্রার্থী থাকায় ভোটের প্রতিযোগিতা হয়নি। ২০২৫ সালেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘবিষয়ক পরিচালক লুই শারবোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, মানবাধিকার পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সদস্যপদ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন থাকা প্রয়োজন। এতে প্রার্থীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয় এবং প্রয়োজন হলে কোনো প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কয়েকটি নির্বাচিত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিষদে জায়গা পেয়েছে। তাদের মতে, সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সদস্যদেশগুলোর মানবাধিকার রেকর্ড, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সদস্যসংখ্যা ৪৭। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত এ সংস্থার মূল দায়িত্ব বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রসারে কাজ করা, বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে উদ্যোগ নেওয়া। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের গোপন ব্যালটে মানবাধিকার পরিষদের সদস্য নির্বাচন করা হয়। ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদে নির্বাচিত হতে একটি দেশকে কমপক্ষে ৯৭ ভোট পেতে হয়। সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর এবং কোনো দেশ টানা দুই মেয়াদের বেশি পরিষদে দায়িত্ব পালন করতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার পরিষদের কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে শুধু আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখাই যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি সদস্যদেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি, জবাবদিহি এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় তাদের বাস্তব ভূমিকার নিরপেক্ষ মূল্যায়নও প্রয়োজন।
The post ১৫ আসনে ১৫ প্রার্থী, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ভোটে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে নতুন সদস্য appeared first on ভোরের চেতনা.
