প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ, এক দশক ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে
রোজিনা বেগম, নিজস্ব প্রতিনিধি:
- আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
মান্তা জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পরিবেশ সুরক্ষায় অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ গ্রহণ করছেন আরিফুর রহমান।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
মান্তা জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্যোগে সহায়তা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেয়েছেন মো. আরিফুর রহমান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলা’ ক্যাটাগরিতে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। আরিফুর বর্তমানে ইয়ুথনেট গ্লোবালের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৬ সালে বরিশালের নদীতে বসবাসকারী মান্তা জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম দেখে তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ শুরু করেন আরিফুর। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় এ জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পেতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন।
মান্তা শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগের পাশাপাশি তাঁদের নাগরিক অধিকার, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন তিনি। ইয়ুথনেট গ্লোবালের ‘মান্তাকানেক্ট’ উদ্যোগের আওতায় ৩০০ মান্তা সদস্যকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এ জনগোষ্ঠীর জন্য কবরস্থানের জমির ব্যবস্থা করতেও ভূমিকা রেখেছেন আরিফুর।
করোনা মহামারি, ঘূর্ণিঝড় আম্পানসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাবার, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০২২ সাল থেকে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে ৯৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের আশ্রয়, জীবিকা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর কার্যক্রমেও কাজ করছেন।
এ ছাড়া পরিবেশ শিক্ষা, বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকদূষণ প্রতিরোধ ও জলবায়ু বিষয়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে কাজ করছেন আরিফুর। ঝালকাঠির ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠেছে ইয়ুথ ক্লাইমেট ক্লাব। এসব ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৩০০ শিক্ষার্থী ও ২০ জন শিক্ষক।
পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমার এ সম্মাননা সব তরুণ স্বেচ্ছাসেবীর প্রতি উৎসর্গ করছি। আমি বিশ্বাস করি, তরুণেরাই পারে সমাজ বদলাতে।’
ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, আরিফুর মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে দয়া বা দান হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তাঁর কাজ স্থানীয় সমস্যা সমাধানে তরুণদের কার্যকর ভূমিকার দৃষ্টান্ত।

