আচরণে সন্দেহ, ডোপ টেস্টে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সদস্য
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
মো. ওসমান গনি। ছবি: সংগৃহীত
-->আচরণ ও চালচলন নিয়ে সন্দেহের পর কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের এক সদস্যকে ডোপ টেস্টের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি জেলা পুলিশে চালকের দায়িত্বে থাকা মো. ওসমান গনি। তার পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ওসমান গনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার সাহাবেলীশ্বর গ্রামের আবদুল কুদ্দুছের ছেলে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর আচরণ ও চালচলন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাঁকে ডোপ টেস্টের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক ব্যবহারের বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে বা সন্দেহ দেখা দিলে ডোপ টেস্ট করানো হয়। ওসমান গনির পরীক্ষার চূড়ান্ত মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এসকে রাসেল/এসএন
আরও পড়ুন
ভোলায় শিবিরের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের বাধা দেওয়ার অভিযোগ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ভোলা সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে বাধা এবং ক্যাম্পাসে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংগঠনটির কলেজ শাখা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ভোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ছাত্রশিবিরের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবছর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ভোলা সরকারি কলেজ শাখাও এ বছর অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করার পর অনুমতি পেয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর কলেজের ছায়াবীথিতে অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করা হয়। পরে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে প্রচার চালানো হয়।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, তাদের অনুষ্ঠানের প্রচার শুরুর দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর ছাত্রদল একইদিন ও একইস্থানে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেয়। বিষয়টি সমাধানে ছাত্রদলের কলেজ ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মসূচির সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হলেও তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া রাতের আঁধারে ক্যাম্পাসে টাঙানো ছাত্রশিবিরের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের নেতারা আরও বলেন, ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো ছাত্রসংগঠনের স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতের আধিপত্যবাদী ছাত্ররাজনীতির পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।
লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, আগামী ১৫ অক্টোবরের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কলেজ প্রশাসনের অনুমতির ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন তার দেওয়া অনুমতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
একই সঙ্গে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বাধা, হামলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে বলে সতর্ক করেন ছাত্রশিবিরের নেতারা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কলেজ প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রশিবিরের ভোলা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মো. আল-আমীন, সহসভাপতি ইমরান হোসেন নাবিল, সেক্রটারি কামরুল হাসানসহ কলেজ শাখার নেতারা।
ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব আব্দুস সামাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছে ছাত্রদল। এরই অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ভোলার শহিদ নাঈমের স্মরণে দুই দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদল।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি ছাত্রসংগঠন এই আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কলেজে বহিরাগতদের এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’
ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফীল জানান, একইদিনে কলেজ ক্যাম্পাসে দুটি ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি থাকায় বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে উভয় সংগঠনের কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কলেজ ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও জানানো হয়েছে।
ইমতিয়াজুর রহমান/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
পলাতক ফ্যাসিস্টরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে : আমানউল্লাহ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->পলাতক ফ্যাসিস্টরা এক হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় বীর সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে। জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে, খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে।’
দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে গুপ্ত, ঘাপটি মেরে থাকা পলাতক ফ্যাসিস্টরা এক হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। তাদের বলতে চাই, ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে যেকোনো মূল্যে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছেন, তিনি দেশের সম্পদ। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রধানমন্ত্রী তাদের এখানে পাঠিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন আমান উল্লাহ আমান।
সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির ছোট ভাই, প্রাবন্ধিক, লেখক ও অনুবাদক মইনুদ্দীন খালেদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এমপি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি, জাতীয় বীর হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জাগপা সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান।
এ ছাড়াও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি, যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহজাহান কবীর সাজু, শরীফ আবেদীন, ময়মনসিংহ উত্তরজেলা যুবদলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আজিজুল হাই সোহাগ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীন ফরিদ প্রমুখ।
ফয়সল/অলি/
আরও পড়ুন
ইটনায় ছাত্রদল নেতাসহ ৬ জনের কাছে মিলল ২৪৫ পিস ইয়াবা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
বাদলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি রামিম হাসান। ছবি: খবরের কাগজ
-->কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় ২৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছাত্রদল নেতাসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের থানেশ্বর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলায় থানেশ্বর ডোমহাটি এলাকার বাদলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি রামিম হাসান ওরফে মানার ভূঁইয়া (২২), একই এলাকার মো. মনির ভূঁইয়া (২০) ও মো. সারোয়ার (২৭), থানেশ্বর নয়াবাড়ী এলাকার মো. সাব্বির (২০), বর্শিকুড়া দরগাপাড়া এলাকার মো. এশারুল মোল্লা (৩৮) এবং দক্ষিণ বর্শিকুড়া আওগাহাটি এলাকার মো. আরিফ (২৬)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে থানেশ্বর স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ২৪৫ পিস ইয়াবাসহ ছয়জনকে আটক করা হয়।
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খান বলেন, থানেশ্বর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ২৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ইটনা থানায় মামলা করা হয়েছে।
বাদলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদুল হাসান (রনি) বলেন, ইউনিয়ন সহসভাপতি রামিম হাসান ওরফে মানার ভূঁইয়া অন্য লাইনে চলে। আমি বিষয়টি উপজেলা নেতাদের জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এসকে রাসেল/রিফাত/
আরও পড়ুন
জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ, বাসায় হামলা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে (জিএম কাদের) গ্রেপ্তারের দাবিতে তার উত্তরার বাসার সামনে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এ সময় বাসায় হামলা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় জিএম কাদের বাসায় ছিলেন, তবে এতে কেউ আহত হননি বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম।
তিনি বলেন, হঠাৎ একটি ব্যানার নিয়ে এসে একদল দুষ্কৃতকারী পার্টির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে ঘরের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু, প্রবেশ করতে না পারে দরজা-জানালায় ইট-পাথর নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। পরে স্লোগান দিয়ে তারা চলে যায়।
এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান মাহমুদ আলম।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘স্বৈরাচার বিরোধী সাধারণ জনগণ’ এর ব্যানারে একদল লোক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জিএম কাদেরের উত্তরা বাসভবনের সামনে উপস্থিত হয়।
এ সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে অভিযোগে তুলে জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। পরে জিএম কাদেরর বাসভবনের দরজা-জানালা লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকরা।
বিক্ষোভকারীরা জিএম কাদেরের উত্তরার বাসার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তার বিচার দাবি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি খালিদ মনসুর।
তিনি বলেন, বেলা ১১টার দিকে জিএম কাদেরের বাসার সামনে একটি মিছিল হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিক্ষোভকারীদের ব্যানারে জি এম কাদেরের প্রতিকৃতির পাশাপাশি লেখা ছিল, জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ; জি এম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ বজায় রাখছে। এ ছাড়া বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি তৎকালীন সরকারকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তারা জি এম কাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অপরদিকে, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যানের উত্তরার বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তারা জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা তার বাসভবনে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
জয়ন্ত/অমিয়/
