Published on
:
2 min read
পুজো শুরু হতে না হতেই আনন্দ হলো বিষাদ! কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রয়েছেন হুগলির আরামবাগের একই পরিবারের তিন জন। দুর্ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছতেই শোকস্তব্ধ গ্রাম।
আরামবাগের মলয়পুর-১ অঞ্চলের বালিয়া এলাকার বাসিন্দা পিয়ালী প্রামাণিক, তাঁর বড় ননদ টগর বেইজ ও টগরের ছেলে সন্দীপ বেইজ। সন্দীপ ও টগরের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে। কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাবেন বলে এসেছিলেন পিয়ালীদের বাড়ি। বাড়ির আট সদস্য একসঙ্গে ঠাকুর দেখতে যান শনিবার।
এক নজরে
চোরবাগান পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পিয়ালী প্রামাণিক, টগর বেইজ ও সন্দীপ বেইজ।
শনিবার কলকাতায় পুজো দেখতে বেরিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
চোরবাগানের প্যান্ডেলে ঢোকার পর প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। ভিড়ের চাপে বেরোনোর চেষ্টা করেও সফল হননি তাঁরা বলে পরিবারের আত্মীয়ের দাবি।
টগর বেইজের মেয়ে আগমনী বেইজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রবিবার বালিয়ায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন পুড়শুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ ও আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ।
পিয়ালীদের এক আত্মীয় সঞ্জয় প্রামাণিক জানান, পিয়ালীর বড় ননদের ছেলে উত্তরপাড়ায় থাকে পড়াশোনার জন্য। সেখানে যান। সেখান থেকেই কলকাতায় ঠাকুর দেখতে বেরোন সকলে। চোরবাগানের পুজো দেখতে গেলে, সেই সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। এ দিকে পিয়ালীরা তখন প্যান্ডেলের ভিতরে ঢুকে গিয়েছিলেন। ততক্ষণে ভিড়ে ঠেলাঠেলি শুরু। প্যান্ডেলের অবস্থাও খারাপ হতে শুরু করে।
সঞ্জয়ের কথায়, ‘পুজো কমিটির তরফে ঘোষণা করা হয়, প্যান্ডেলের অবস্থা খুব খারাপ। আপনারা বেরিয়ে পড়ুন। বেরোনোর চেষ্টা করেছিল ওরা। কিন্তু এত ভিড় যে বেরোতে পারেনি, নীচে পড়ে যায়। টগর, সন্দীপ আর পিয়ালী পড়ে গিয়ে মারা যায়। মেয়ে আগমনী বেইজ হাসপাতালে ভর্তি।’
রবিবার মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বালিয়া এলাকায় যান পুড়শুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ এবং আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বিমান ঘোষ বলেন, ‘তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। বলার মতো কোনও ভাষা নেই। পরিবার যাতে দ্রুত মৃতদেহগুলি হাতে পায়, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই আমরা পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এই ঘটনায় যাঁদের গাফিলতি রয়েছে, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।’
FAQs
১. চোরবাগান পদপিষ্টের ঘটনায় আরামবাগের কারা মারা গিয়েছেন?
পিয়ালী প্রামাণিক, তাঁর বড় ননদ টগর বেইজ এবং টগরের ছেলে সন্দীপ বেইজের মৃত্যু হয়েছে।
২. মৃতদের বাড়ি কোথায়?
পিয়ালী প্রামাণিকের বাড়ি হুগলির আরামবাগের মলয়পুর-১ অঞ্চলের বালিয়া এলাকায়। টগর বেইজ ও তাঁর ছেলে সন্দীপ বেইজের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে।
৩. কী ভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাঁরা?
পরিবারের আত্মীয় সঞ্জয় প্রামাণিকের দাবি, চোরবাগানের প্যান্ডেলে প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর ভিড় ও ঠেলাঠেলি বাড়ে। বেরোনোর চেষ্টা করেও তাঁরা ভিড়ের মধ্যে আটকে পড়েন।
৪. পরিবারের আর কেউ কি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন?
টগর বেইজের মেয়ে আগমনী বেইজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
৫. মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কারা দেখা করেছেন?
রবিবার পুড়শুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ ও আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ বালিয়ায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।