বিগত নয় মাসে গণপিটুনি ও রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৬০ জনের মৃত্যু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ করে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
মঙ্গলবার(২০ অক্টোবর) বিকেলে পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, পত্রিকার খবর অনুযায়ী, বিগত ৯ মাসে গণপিটুনি ও রাজনৈতিক সহিংসতায় মানুষ মারা গেছে ২৬০ জন। ১৯৮ টি গণপিটুনির ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪০১ জন। এসময়ে ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও ৬ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। এই সংঘাতগুলোর মধ্যে ৯১ শতাংশ ঘটনাই ছিল বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংঘর্ষের ফল।
উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে শক্তিশালী সরকার থাকলে, আইন-আদালতের ওপরে মানুষের আস্থা থাকলে, আইনের প্রয়োগ থাকলে এতো বিপুল পরিমাণ মানুষ মৃত্যুর শিকার হতো না। এই নয়মাসের অধিকাংশ সময়ই বিএনপি ক্ষমতায় ছিলো। দায়িত্ব গ্রহণের পরে সাত মাস অতিক্রান্ত হলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতাকেই তুলে ধরছে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব আরও বলেন, নানা ব্যর্থতায় ও অসদাচরণের দায়ে সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার বা করানোর যে সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে তা ইতিবাচক। এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকা উচিত। আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব থাকা কর্তাব্যক্তিদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
দলের নিয়মিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা নেছার উদ্দিন, শাহ ইফতেখার তারিক, সহকারী মহাসচিব কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরি, মাওলানা মানসুর আহমাদ সাকি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাসেম, মাওলানা খলিলুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফ ও অধ্যাপক নাসির উদ্দিন।
জেইউ/আরএএস
