একদিকে ব্যক্তিগত মাইলফলক, অন্যদিকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস! আবুধাবিতে যেন দুই লক্ষ্যই একসঙ্গে পূরণ করছেন লিটন কুমার দাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের চতুর্থ দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের ঘরে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। তার সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের দৃঢ়তায় ম্যাচে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে বাংলাদেশ।
আজ সোমবার শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১০৬ রানের লিড থাকায় দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল দলের সামনে। সেই লক্ষ্যে শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করেন লিটন। আফগান স্পিনারদের বিপক্ষে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপ সামলানোর পাশাপাশি রান তোলার গতিও ধরে রাখেন তিনি।
তবে লিটনের ইনিংস আরও আগেই থামতে পারত। ব্যক্তিগত ১৪ রানে কায়েস আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। শহিদউল্লাহ কামাল সেই সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর ২৬ রানে কায়েসের বলেই ফিরতি ক্যাচের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এবারও ব্যর্থ আফগান বোলার। দুইবার জীবন পেয়ে লিটন যে ভুল করেননি, তা বোঝা গেছে পরবর্তী ব্যাটিংয়ে।
ব্যাট হাতে নিজের ছন্দ ধরে রেখে একের পর এক রান যোগ করেছেন তিনি। দিনের প্রথম সেশনে মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে আফগান বোলারদের কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেন লিটন। দুই ব্যাটারের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ২৬ ওভারে ১১৪ রান পায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের সময় দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩৩৭।
এই সময় ৯৬ বলে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন। মিরাজের সংগ্রহ ছিল ৭৪ বলে ৩৮ রান। দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের মোট লিড পৌঁছে যায় ৪৪৩ রানে। হাতে তখনো চার উইকেট থাকায় ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে টাইগারদের সামনে।
এরই মধ্যে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায়ও নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে লিটনের। বাংলাদেশের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রান পূর্ণ করেছেন তিনি। তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দেশের ক্রিকেটের চার অভিজ্ঞ তারকার পর এবার সেই বিশেষ তালিকায় যুক্ত হলো লিটনের নাম।
আবুধাবিতে চলতি টেস্টে লিটনের ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। প্রথম ইনিংসেও অর্ধশতক করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও পঞ্চাশ পেরিয়ে দলের বড় সংগ্রহের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার দিনেই তার ব্যাটে এসেছে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ইনিংস।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের জন্য দিনটি হয়ে উঠেছে হতাশার। আগের দিনই তিনটি রিভিউ নষ্ট করেছিল তারা। চতুর্থ দিনে ফিল্ডিংয়ের ভুলে লিটনকে দুবার জীবন দেওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আফগানরা। বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের এই ব্যর্থতা বাংলাদেশের ব্যাটারদের আরও নির্ভার হয়ে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে।
আবুধাবি টেস্টে এখন বাংলাদেশের আধিপত্য স্পষ্ট। লিটনের ব্যক্তিগত রেকর্ড, মিরাজের সঙ্গে তার কার্যকর জুটি এবং ৪৪৩ রানের বিশাল লিড-সবকিছুই টাইগারদের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ইনিংস ঘোষণা করার আগে বাংলাদেশ লিডকে আর কতটা বড় করতে পারে।
