সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:২১ অপরাহ্ন
গত ১৩ বছরে দেশে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক বার্তায় এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ, সড়ক পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও ভুলনীতির কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার খবর পর্যবেক্ষণ করে এসব পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। তবে দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে নৌ ও রেলপথের ব্যবহার বাড়িয়ে সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে মানুষের যাতায়াতে সড়কের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও সেই অনুপাতে উন্নত গণপরিবহন ও সমন্বিত যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা উপেক্ষা করে সড়ককেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং রেল ও নৌপথ সংকুচিত করার নীতির কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিগত সরকারের নীতিগত ভুল, অনিয়ম ও দুর্নীতিও সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিবৃতিতে পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা, মালিক-শ্রমিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক, সড়ক নির্মাণের ত্রুটি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করাকে সড়কে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে, দেশে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া বৃদ্ধি এবং অবাধ চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ ছাড়া সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা, গাছপালার কারণে অন্ধ বাঁক তৈরি হওয়া, মহাসড়ক ও যানবাহনের ত্রুটি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার বিষয়গুলোও দুর্ঘটনার কারণ।
সংগঠনটি আরও বলেছে, উল্টোপথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। বিরামহীনভাবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া যানবাহন চালানোও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ১০টি সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা, উন্নত বিশ্বের আদলে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করা।
এ ছাড়া উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্স দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন নির্মাণ, কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
মহাসড়কে পথচারী চলাচল ও পারাপারের ব্যবস্থা, সড়কে রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত এবং নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেওয়ার পদ্ধতি আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন চলাচল থেকে সরিয়ে নেওয়া, বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানো এবং ট্রাফিক প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
