সানা,১৬ অক্টোবর-ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর অ্যাডেনের ঐতিহাসিক আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই প্রাসাদে চলমান সংঘাত শুরুর পর এটিই প্রথম সরাসরি হামলা।
এই হামলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচজন কর্মচারী ও নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুআম্মার আল-ইরিয়ানি নিশ্চিত করেছেন, হামলার সময় প্রাসাদে অবস্থান করলেও প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানান, হামলায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষী এবং বেসামরিক কর্মচারীরাও রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজপ্রাসাদ এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
হামলার দায় স্বীকার করে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, অ্যাডেনে অবস্থিত সৌদি সামরিক অভিযানের প্রধান কার্যালয় লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সৌদি সমর্থিত বাহিনী এবং তাদের যেকোনো সেনা পুনরায় শক্তি বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়েমেন সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাসাদের ভেতরে থাকা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কমান্ড সেন্টার ও সদর দপ্তর লক্ষ্য করে বিদ্রোহীরা অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এতে বেশ কয়েকজন ইয়েমেনি ও সৌদি সদস্য হতাহত হয়েছেন।
সংঘাতের এই নতুন রূপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের ভেতরেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে হুতিরা। সম্প্রতি রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ২০ বার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। বিমান চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় অঞ্চলটির আকাশসীমায় হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুতিদের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের কারণে চার বছরের আপেক্ষিক শান্তির পর আবারও দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে হুতিদের অবরোধে থাকা দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজে খাদ্য ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সেখানে চরম মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরবসহ লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের অব্যাহত ও বিপজ্জনক হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এস এম/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
