Published on
:
2 min read
দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, রাতভর ঠাকুর দেখা আর সবচেয়ে স্পেশাল প্রিয় মানুষের সঙ্গে বিশেষ মুহূর্ত কাটানোর স্বপ্ন। একসঙ্গে অঞ্জলি দেওয়া, রংমিলান্তি করে পোশাক পরা, এই সব প্ল্যান সাজিয়েছেন অনেক আগেই। কিন্তু যার সঙ্গে পুজোর প্ল্যান করেছিলেন, সেই মানুষটিই যদি হঠাৎ দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন? মেসেজের উত্তর আসে দেরিতে, দেখা করার কথা উঠলেই নানা অজুহাত, অথচ সম্পর্ক শেষ করার কথাও বলেন না! সম্পর্কের এই ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতাকেই বলা হয় Slow Ghosting। সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে কেউ আগ্রহ হারালে এমন আচরণ করতে পারেন। কোন পাঁচ লক্ষণে বুঝবেন আপনার সম্পর্কেও এমনটা ঘটছে?
ছোট হয়ে আসছে মেসেজের উত্তর
আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, পুজোর প্ল্যান নিয়ে চলত লম্বা আলোচনা। এখন সেই মানুষটির উত্তর সীমাবদ্ধ থাকছে ‘হুম’, ‘আচ্ছা’ কিংবা ‘পরে বলছি’-তে। কথা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন শুধু আপনিই। এক-দু’দিন এমন হলে চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু নিয়মিত এই পরিবর্তন দেখা গেলে সম্পর্কের সমীকরণে বদল এসেছে কি না, ভেবে দেখুন।
দেখা করার সময় অজুহাতের শেষ নেই
পুজোয় একসঙ্গে ঠাকুর দেখার প্ল্যান করছেন, কিন্তু প্রতিবারই সঙ্গী ব্যস্ততার কথা বলছেন। কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যা সত্যিই থাকতে পারে। তবে দেখা করার প্রস্তাব বাতিল করেও যদি তিনি অন্য কোনও দিন বা সময়ের কথা না বলেন, তা হলে বুঝতে হবে সম্পর্কের জন্য তাঁর উদ্যোগ কমছে।
আপনি এগিয়ে গেলেই ফের বাড়ে মনোযোগ
আপনি যখন মেসেজ করা কমিয়ে দেন কিংবা নিজের মতো থাকতে শুরু করেন, তখনই হঠাৎ তাঁর খোঁজ নেওয়া শুরু হয়। মিষ্টি কথা, পুরোনো স্মৃতির উল্লেখ— সব মিলিয়ে মনে হয়, আগের সম্পর্কটা বুঝি ফিরে আসছে। কিন্তু কয়েক দিন পর আবার সেই দূরত্ব। এমন মিশ্র সংকেত আপনাকে আশা আর হতাশার মধ্যে আটকে রাখতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা শুধু আপনার
প্রতিবার আপনিই মেসেজ করছেন, ফোন করছেন, দেখা করার পরিকল্পনা করছেন। আপনার দিন কেমন কাটল, পুজোর কেনাকাটা হলো কি না— এ সব জানতে সঙ্গীর বিশেষ আগ্রহ নেই। সুস্থ সম্পর্কে দু’জনেরই উদ্যোগ প্রয়োজন। একা সম্পর্ক বাঁচানোর চেষ্টা করতে করতে নিজে মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন কি না, খেয়াল রাখুন।
দূরত্ব বাড়ছে, কিন্তু কারণ অজানা
আচরণ বদলে গিয়েছে, অথচ কেন বদলেছে তা নিয়ে কোনও স্পষ্ট কথা নেই। আপনি অপেক্ষা করছেন, নিজেকে প্রশ্ন করছেন, এমনকী নিজের ভুল খুঁজতেও শুরু করেছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, অন্যের নীরবতার জন্য নিজেকে দায়ী করা ঠিক নয়।
এমন হলে কী করবেন?
সব কিছু নিজে অনুমান করে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। হতে পারে সত্যিই কোনও সমস্যা রয়েছে। তাই শান্ত ভাবে নিজের অনুভূতির কথা জানান, তাঁর কাছে স্পষ্ট উত্তর চান। একবারের আচরণ নয়, ধারাবাহিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিন। উত্তর না পেলে নিজের আত্মসম্মান ও মানসিক শান্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই শ্রেয়। পুজোর আনন্দ কারও মেসেজের অপেক্ষায় আটকে না রেখে বন্ধু, পরিবার ও নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন। সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও নিজের আনন্দের অধিকার আপনার থাকছেই।
